চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের অখালাসকৃত পণ্যের জট কমাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২২০ কনটেইনার বিভিন্ন ধরনের পণ্য ই-অকশন বা অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
মূলত বন্দরের জায়গার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করতেই এই বিশেষ নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। এনবিআর জানিয়েছে, মে ও জুন মাস জুড়ে চলবে এই প্রক্রিয়া।
মোট দুই ধাপে এই বিশাল নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে:
ই-অকশন-০৪/২০২৬: এই ধাপে ১২০টি লটে মোট ১৬০ কনটেইনার পণ্য বিক্রি করা হবে। যার মধ্যে রয়েছে শিল্প-কারখানার কেমিক্যাল, বিভিন্ন মেশিনারিজ, কাগজ, ফেব্রিক্স, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং এসির খুচরা যন্ত্রাংশ। উল্লেখ্য, এই ধাপের পণ্যের জন্য কোনো ‘সংরক্ষিত মূল্য’ বা রিজার্ভড ভ্যালু রাখা হয়নি।
ই-অকশন-০৫/২০২৬: এই ধাপে ১৭টি লটে থাকছে ৬০ কনটেইনার পণ্য। এতে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার লিফট, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ।
পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা নিম্নলিখিত উপায়ে অংশ নিতে পারবেন:
বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিশিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে।
মে মাসজুড়ে ক্রেতারা সশরীরে বন্দরে গিয়ে পণ্যগুলো দেখার সুযোগ পাবেন।
অনলাইন বিডিংয়ের পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে।
সর্বোচ্চ দরদাতাকে অবশ্যই ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’-এর যাবতীয় শর্ত মেনে পণ্য খালাস করতে হবে।
নিলামের নাম দরপত্র খোলার তারিখ সময়
ই-অকশন-০৫/২০২৬ ১৪ মে, ২০২৬ দুপুর ৩:০০ টা
ই-অকশন-০৪/২০২৬ ৯ জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০০ টা
চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















