ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে আমানতকারীদের ক্ষোভ: টাকা ফেরতের দাবিতে ব্যাংকগুলোতে তালা।

ব্যাংকে জমা রাখা টাকা সময়মতো ফেরত না পেয়ে এবার রাজপথে নেমেছেন চট্টগ্রামের সাধারণ আমানতকারীরা। সোমবার (৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম স্থবির করে দেন কয়েকশ বিক্ষুব্ধ গ্রাহক। ‘ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

আন্দোলনকারীরা প্রথমে মিছিল নিয়ে এক্সিম ব্যাংকের সামনে জড়ো হন এবং শাখাটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে তারা পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর শাখাতেও তালা লাগিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীদের কণ্ঠে শোনা যায় নানা স্লোগান:

“আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়?”

“আমানত নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না।”

“হেয়ার কাট পদ্ধতি, মানি না মানি না।”

গ্রাহকদের অভিযোগের মূল কারণ
আন্দোলনরত গ্রাহকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় উত্তোলন করতে পারছেন না। ব্যাংকিং লেনদেন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
১. টাকা উত্তোলনে বাধা: অনেক গ্রাহককে জানানো হয়েছে যে, ২০২৮ সালের আগে তারা তাদের আমানত ফেরত পাবেন না।
২. হেয়ার কাট পদ্ধতি: আমানতের মূলধন বা মুনাফার একটি অংশ কেটে রাখার (হেয়ার কাট) যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ গ্রাহকরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
৩. মেয়াদ পূর্তিতে অসহযোগিতা: নির্ধারিত সময়ের আগে আমানত ভাঙার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে গ্রাহকরা জানান।

আন্দোলন চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ প্রসঙ্গে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান জানান, গ্রাহকরা তাদের পাওনা টাকার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের একটি টিম সেখানে শুরু থেকেই অবস্থান করছে।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকটের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানোর প্রতিবাদে এবং দ্রুত টাকা ফেরত পাওয়ার লক্ষ্যেই চট্টগ্রামের এই বিক্ষোভ। আমানতকারীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে আমানতকারীদের ক্ষোভ: টাকা ফেরতের দাবিতে ব্যাংকগুলোতে তালা।

আপডেট সময় : ০৪:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ব্যাংকে জমা রাখা টাকা সময়মতো ফেরত না পেয়ে এবার রাজপথে নেমেছেন চট্টগ্রামের সাধারণ আমানতকারীরা। সোমবার (৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম স্থবির করে দেন কয়েকশ বিক্ষুব্ধ গ্রাহক। ‘ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

আন্দোলনকারীরা প্রথমে মিছিল নিয়ে এক্সিম ব্যাংকের সামনে জড়ো হন এবং শাখাটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে তারা পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর শাখাতেও তালা লাগিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীদের কণ্ঠে শোনা যায় নানা স্লোগান:

“আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়?”

“আমানত নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না।”

“হেয়ার কাট পদ্ধতি, মানি না মানি না।”

গ্রাহকদের অভিযোগের মূল কারণ
আন্দোলনরত গ্রাহকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় উত্তোলন করতে পারছেন না। ব্যাংকিং লেনদেন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
১. টাকা উত্তোলনে বাধা: অনেক গ্রাহককে জানানো হয়েছে যে, ২০২৮ সালের আগে তারা তাদের আমানত ফেরত পাবেন না।
২. হেয়ার কাট পদ্ধতি: আমানতের মূলধন বা মুনাফার একটি অংশ কেটে রাখার (হেয়ার কাট) যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ গ্রাহকরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
৩. মেয়াদ পূর্তিতে অসহযোগিতা: নির্ধারিত সময়ের আগে আমানত ভাঙার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে গ্রাহকরা জানান।

আন্দোলন চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ প্রসঙ্গে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান জানান, গ্রাহকরা তাদের পাওনা টাকার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের একটি টিম সেখানে শুরু থেকেই অবস্থান করছে।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকটের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানোর প্রতিবাদে এবং দ্রুত টাকা ফেরত পাওয়ার লক্ষ্যেই চট্টগ্রামের এই বিক্ষোভ। আমানতকারীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।