গাইবান্ধা সদর থানায় এজাহার দাখিল করতে গিয়ে বিচারহীনতার শিকার হয়ে এক নারী আত্মহত্যাচেষ্টা চালিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এজাহার না নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ এনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) গাইবান্ধা সদর উপজেলার উজির ধরনীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা এএইচএম জিয়াউর রহমান খান ডাকযোগে পুলিশ সদর দপ্তরে এই অভিযোগপত্র পাঠান। অভিযোগের অনুলিপি গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমান খানের বাড়ির কেয়ারটেকার মোছাঃ নূরুন নাহার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় কয়েকজনের হাতে শারীরিক নির্যাতন, মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত এজাহার দিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন তা গ্রহণ না করে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি প্রতিকার না পেয়ে মানসিক চাপে ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই নারী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগীর পরিবার এজাহার গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ওসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তবে ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে অভিযোগের তেমন সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে আইজিপির কাছে অভিযোগ যাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয় জেলা পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, 





















