ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘গভীর সংকটে দেশের রেস্তোরাঁ খাত’, মালিকদের সংবাদ সম্মেলন

  • অনলাইন ডেস্ক,
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • 43

‘গভীর সংকটে দেশের রেস্তোরাঁ খাত’, মালিকদের সংবাদ সম্মেলন

করোনাকালীন সংকট ও পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা আজ হতাশায় রূপ নিয়েছে। বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনিক হয়রানির কারণে দেশের রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়। এতে করে অনেক উদ্যোক্তা লোকসানে পড়ছেন, অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতের প্রধান সংকটগুলোর মধ্যে রয়েছে— তীব্র জ্বালানি সংকট, ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের চাপ, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুডের বিস্তার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের ঘাটতি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে এলপিজি গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে রান্না করতে গিয়ে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হলে গ্রাহক হারাচ্ছেন মালিকরা। অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, এলপিজি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং রেস্তোরাঁ ও আবাসন খাতে পুনরায় প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি জানানো হয়।

এছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি ও হুমকির মাধ্যমে মালিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো নয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিকদের নানা সুবিধা দেওয়ার পরও এই খাতকে টার্গেট করে নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দাম বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় রেস্তোরাঁ মালিকরা চরম সংকটে পড়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটি দাবি করে, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রেস্তোরাঁ খাত রক্ষার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতকে একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতায় এনে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে ভ্যাট ও কর আরো সহনীয় করা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সার্ভিসে ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুড ব্যবসা প্রসঙ্গে বলা হয়, নিয়ম-নীতি না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির ফলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এবং সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, এই খাতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ কর্মরত এবং পরোক্ষভাবে প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত।

সরকার যদি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না করে এবং গ্যাস সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান না করে, তাহলে রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মচারীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে রেস্তোরাঁ খাত আবারও অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘গভীর সংকটে দেশের রেস্তোরাঁ খাত’, মালিকদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

করোনাকালীন সংকট ও পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা আজ হতাশায় রূপ নিয়েছে। বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনিক হয়রানির কারণে দেশের রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়। এতে করে অনেক উদ্যোক্তা লোকসানে পড়ছেন, অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতের প্রধান সংকটগুলোর মধ্যে রয়েছে— তীব্র জ্বালানি সংকট, ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের চাপ, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুডের বিস্তার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের ঘাটতি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে এলপিজি গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে রান্না করতে গিয়ে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হলে গ্রাহক হারাচ্ছেন মালিকরা। অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, এলপিজি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং রেস্তোরাঁ ও আবাসন খাতে পুনরায় প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি জানানো হয়।

এছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি ও হুমকির মাধ্যমে মালিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো নয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিকদের নানা সুবিধা দেওয়ার পরও এই খাতকে টার্গেট করে নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দাম বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় রেস্তোরাঁ মালিকরা চরম সংকটে পড়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটি দাবি করে, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রেস্তোরাঁ খাত রক্ষার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতকে একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতায় এনে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে ভ্যাট ও কর আরো সহনীয় করা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সার্ভিসে ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুড ব্যবসা প্রসঙ্গে বলা হয়, নিয়ম-নীতি না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির ফলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এবং সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, এই খাতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ কর্মরত এবং পরোক্ষভাবে প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত।

সরকার যদি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না করে এবং গ্যাস সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান না করে, তাহলে রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মচারীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে রেস্তোরাঁ খাত আবারও অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।