ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম থেকে প্লেনে চড়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ভাতা নিতে গেলেন কোটিপতি পুরোহিত, এলাকায় চলছে তীব্র সমালোচনা।

কুড়িগ্রাম থেকে প্লেনে চড়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ভাতা নিতে গেলেন কোটিপতি পুরোহিত, এলাকায় চলছে তীব্র সমালোচনা।

কুড়িগ্রাম জেলার আলোচিত পুরোহিত উদয় শংকর চক্রবর্তী এবার প্লেনে চড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে ভাতার চেক গ্রহণ করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় গিয়ে এই ভাতা গ্রহণ করেন তিনি, যা ইতোমধ্যেই জেলার নিম্নআয়ের ও হতদরিদ্র পুরোহিত মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি জেলা ট্রাস্টি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ওই সময়ে তিনি রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন মন্দিরের নামে অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে রামকৃষ্ণ মিশনের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন থাকলেও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উদয় শংকর চক্রবর্তীর নিজস্ব একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তিনি জেলার একজন কোটিপতি হিসেবে পরিচিত। জেলার সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, “যার নিজের প্লেনে চড়ার সামর্থ্য, তিনি সামান্য ভাতার টাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিতে যাবেন—এটা সত্যিই বিস্ময়কর।”

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম জেলায় বহু হতদরিদ্র ও অসহায় পুরোহিত রয়েছেন, যারা দিন আনি দিন খাই অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাদের বাদ দিয়ে কোটিপতি এক পুরোহিত ভাতার তালিকায় স্থান পাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, ট্রাস্টি থাকাকালীন অনিয়মের পরও কেন তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো—তা সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক কয়েকজন নেতার সুপারিশে উদয় শংকর চক্রবর্তী পুনরায় জেলা ট্রাস্টি পদে ফিরতে তৎপর হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান সরকারের দরবারে প্রভাব বিস্তার করে নিজের অবস্থান ফিরে পেতে নতুন করে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন তিনি।

কুড়িগ্রাম জেলার হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দায়িত্বে থাকা, স্বপন কুমার সাহা কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই বিষয় টি আমার অগোচরেই হয়েছে অথাৎ আমি জানি না, সমাজ সেবা অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম থেকে এই তথ্য টি পাঠানো হয়েছে। তবে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে -বিষয়টি অবশ্যই যাথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাতিল করা হবে।
ভাতা প্রাপ্তির এই ঘটনা ও ট্রাস্টি পদ ফিরে পাওয়ার তৎপরতা কতটা নৈতিক ও যুক্তিসঙ্গত—তা নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও হতদরিদ্র পুরোহিতদের মাঝে ক্ষোভ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম থেকে প্লেনে চড়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ভাতা নিতে গেলেন কোটিপতি পুরোহিত, এলাকায় চলছে তীব্র সমালোচনা।

আপডেট সময় : ০৭:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলার আলোচিত পুরোহিত উদয় শংকর চক্রবর্তী এবার প্লেনে চড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে ভাতার চেক গ্রহণ করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় গিয়ে এই ভাতা গ্রহণ করেন তিনি, যা ইতোমধ্যেই জেলার নিম্নআয়ের ও হতদরিদ্র পুরোহিত মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি জেলা ট্রাস্টি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ওই সময়ে তিনি রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন মন্দিরের নামে অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে রামকৃষ্ণ মিশনের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন থাকলেও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উদয় শংকর চক্রবর্তীর নিজস্ব একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তিনি জেলার একজন কোটিপতি হিসেবে পরিচিত। জেলার সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, “যার নিজের প্লেনে চড়ার সামর্থ্য, তিনি সামান্য ভাতার টাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিতে যাবেন—এটা সত্যিই বিস্ময়কর।”

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম জেলায় বহু হতদরিদ্র ও অসহায় পুরোহিত রয়েছেন, যারা দিন আনি দিন খাই অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাদের বাদ দিয়ে কোটিপতি এক পুরোহিত ভাতার তালিকায় স্থান পাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, ট্রাস্টি থাকাকালীন অনিয়মের পরও কেন তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো—তা সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক কয়েকজন নেতার সুপারিশে উদয় শংকর চক্রবর্তী পুনরায় জেলা ট্রাস্টি পদে ফিরতে তৎপর হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান সরকারের দরবারে প্রভাব বিস্তার করে নিজের অবস্থান ফিরে পেতে নতুন করে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন তিনি।

কুড়িগ্রাম জেলার হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দায়িত্বে থাকা, স্বপন কুমার সাহা কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই বিষয় টি আমার অগোচরেই হয়েছে অথাৎ আমি জানি না, সমাজ সেবা অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম থেকে এই তথ্য টি পাঠানো হয়েছে। তবে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে -বিষয়টি অবশ্যই যাথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাতিল করা হবে।
ভাতা প্রাপ্তির এই ঘটনা ও ট্রাস্টি পদ ফিরে পাওয়ার তৎপরতা কতটা নৈতিক ও যুক্তিসঙ্গত—তা নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও হতদরিদ্র পুরোহিতদের মাঝে ক্ষোভ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।