ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগে ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা, অভিযুক্ত পলাতক

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই ভাতিজার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায়। এ ঘটনায় বাহাদুর আলীর ছেলে শাহজালাল ওরফে মণ্ডল (২৭)-কে আসামি করে নাগেশ্বরী থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী (২৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী সংসারের খরচ চালাতে প্রায়ই ঢাকা, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যেতেন। এ সুযোগে পাশের বাড়ির শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে প্রেমের প্রস্তাব, বিয়ের প্রলোভন এবং নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। পারিবারিকভাবে তারা চাচি-ভাতিজা সম্পর্কের হওয়ায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, চলতি মৌসুমে ভুক্তভোগীর স্বামী কাজের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ গেলে গত ২৫ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে শাহজালাল জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। পরে মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে নারীর চিৎকারে অভিযুক্ত জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরদিন ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ ছিল এবং উভয় পক্ষকে সতর্কও করা হয়েছিল। তবে কেউ কেউ তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও তুলেছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, “সে আমাকে একাধিকবার বিয়ের প্রলোভন দিয়েছে। আবার ছবি ও ভিডিও ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে আগেও জোরপূর্বক সম্পর্ক করেছে। লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারিনি। এবার আমি বিচার চাই।”
অভিযুক্ত শাহজালালের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির সব ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর সে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে গেছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, উভয় পক্ষই বিষয়টি তাকে জানিয়েছিল। পরে স্থানীয়ভাবে সমাধানের কথা থাকলেও এর আগেই ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করে।
নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শুক্রবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি পলাতক রয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগে ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা, অভিযুক্ত পলাতক

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই ভাতিজার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায়। এ ঘটনায় বাহাদুর আলীর ছেলে শাহজালাল ওরফে মণ্ডল (২৭)-কে আসামি করে নাগেশ্বরী থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী (২৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী সংসারের খরচ চালাতে প্রায়ই ঢাকা, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যেতেন। এ সুযোগে পাশের বাড়ির শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে প্রেমের প্রস্তাব, বিয়ের প্রলোভন এবং নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। পারিবারিকভাবে তারা চাচি-ভাতিজা সম্পর্কের হওয়ায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, চলতি মৌসুমে ভুক্তভোগীর স্বামী কাজের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ গেলে গত ২৫ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে শাহজালাল জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। পরে মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে নারীর চিৎকারে অভিযুক্ত জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরদিন ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ ছিল এবং উভয় পক্ষকে সতর্কও করা হয়েছিল। তবে কেউ কেউ তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও তুলেছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, “সে আমাকে একাধিকবার বিয়ের প্রলোভন দিয়েছে। আবার ছবি ও ভিডিও ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে আগেও জোরপূর্বক সম্পর্ক করেছে। লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারিনি। এবার আমি বিচার চাই।”
অভিযুক্ত শাহজালালের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির সব ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর সে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে গেছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, উভয় পক্ষই বিষয়টি তাকে জানিয়েছিল। পরে স্থানীয়ভাবে সমাধানের কথা থাকলেও এর আগেই ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করে।
নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শুক্রবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি পলাতক রয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।