ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতদরিদ্র পরিবারের ঘরবাড়ি ও পশু পুড়ে ছাই, ক্ষতি লক্ষাধিক

পঞ্চগড়ে টেন্ডার অধিক গাছ কাটায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হতদরিদ্র পরিবারের বসতঘর ও গৃহপালিত পশু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগীমোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম জানান—ভোররাতে সেহরি খেয়ে নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। হঠাৎ আগুনের তাপ ও ধোঁয়া টের পেয়ে ঘুম থেকে জেগে দেখেন ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে। তাঁর ধারণা, ঘরের ভেতরে অটোরিকশা চার্জে সংযুক্ত ছিল; সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা একটি ছাগল পুড়ে মারা যায় এবং আরেকটি ছাগল গুরুতর দগ্ধ হয়। এছাড়া একটি রিকশা ও একটি সাইকেলও আগুনে পুড়ে যায়।

খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন রিকশাচালক। কষ্ট করে মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সংসার চালাই। আমার স্ত্রী ছাগল পালন করে বছরে কিছু আয় করতেন। তিলে তিলে টাকা জমিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম। আজ সব শেষ হয়ে গেছে।” তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে পুনরায় ঘরটি নির্মাণ করতে পারেন।

এলাকাবাসী জানান, সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তারা। হঠাৎ চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আরমান হোসেন উজ্জ্বল বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঘর, দুটি ছাগল, একটি সাইকেল ও একটি রিকশার অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। আগুনের সূত্রপাত বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতদরিদ্র পরিবারের ঘরবাড়ি ও পশু পুড়ে ছাই, ক্ষতি লক্ষাধিক

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হতদরিদ্র পরিবারের বসতঘর ও গৃহপালিত পশু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগীমোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম জানান—ভোররাতে সেহরি খেয়ে নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। হঠাৎ আগুনের তাপ ও ধোঁয়া টের পেয়ে ঘুম থেকে জেগে দেখেন ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে। তাঁর ধারণা, ঘরের ভেতরে অটোরিকশা চার্জে সংযুক্ত ছিল; সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা একটি ছাগল পুড়ে মারা যায় এবং আরেকটি ছাগল গুরুতর দগ্ধ হয়। এছাড়া একটি রিকশা ও একটি সাইকেলও আগুনে পুড়ে যায়।

খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন রিকশাচালক। কষ্ট করে মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সংসার চালাই। আমার স্ত্রী ছাগল পালন করে বছরে কিছু আয় করতেন। তিলে তিলে টাকা জমিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম। আজ সব শেষ হয়ে গেছে।” তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে পুনরায় ঘরটি নির্মাণ করতে পারেন।

এলাকাবাসী জানান, সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তারা। হঠাৎ চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আরমান হোসেন উজ্জ্বল বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঘর, দুটি ছাগল, একটি সাইকেল ও একটি রিকশার অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। আগুনের সূত্রপাত বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস