দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলধারা পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নাটকিলা নদী ও চম্পাতলি খাল খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) পৃথক দুই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সকালে সাড়ে ৯টায় উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিপুর মৌজায় চম্পাতলি খাল খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খনন কাজের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা, সিলেট জেলা বিএনপির নেতা মইনুল হক চৌধুরী, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুসলিমা আক্তার চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, দপ্তর সম্পাদক ইমাদ উদ্দিন লিলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাল ও নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি সেচ, পানি নিষ্কাশন এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচ সংকটে পড়তেন এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ফসলের ক্ষতি হতো। এসব খাল ও নদী পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে।
পরে দুপুরে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের বুরুঙ্গা মৌজার গদিয়ারচর ও একারাই এলাকায় নাটকিলা নদী খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়া, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াছ মিয়া, ইমরান রব্বানী, কামাল আহমদ পারভেজসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।
নাটকিলা নদী খনন কার্যক্রম উদ্বোধনকালে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীটির নাব্যতা কমে যাওয়ায় কৃষি ও মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। নদী খননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ফসলের ফলন বাড়বে।
তারা আরও বলেন, নদী ও খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমে গিয়ে এলাকার সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত ও সঠিকভাবে খনন কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
ওসমানীনগর উপজেলা প্রতিনিধি: মোঃ রাজন আহমদ, 





















