ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি সেতুর অপেক্ষায় কুড়িগ্রাম-(ফুলবাড়ীর) বাংটুর ঘাটে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চরম ভোগান্তি।

একটি সেতুর অপেক্ষায় কুড়িগ্রাম-(ফুলবাড়ীর) বাংটুর ঘাটে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চরম ভোগান্তি।

​কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী ধরলা নদীর বাংটুর ঘাটে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই তীরের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে ধরলা নদী পার হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে এই যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত এবং মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হয় স্থানীয়দের।
​তীরবর্তী অধিবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে অনেক নেতা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর সেতুর দাবি আর আলোর মুখ দেখে না।​ফুলবাড়ী ও সদরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, গম, ভূট্টা শাকসবজি ও অন্যান্ন ফসল সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পেরে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
নদীর ওপারে স্বনামধন্য কলেজ স্কুল ও মাদ্রাসা থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছে।
কোনো জরুরি রোগীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এই নদী। উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা।
​স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মতে, বাংটুর ঘাটে একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু কুড়িগ্রাম সদরের সাথেই যোগাযোগ সহজ হবে না, বরং ফুলবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার সাথেও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।​ভুক্তভোগী জনপদের মানুষ এখন আর আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপ চায়। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কাটিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি এখন প্রায় দুই লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার জনস্বার্থে এই প্রকল্পে দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের “মানবেতর জীবনযাপন” থেকে মুক্তি দেবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

একটি সেতুর অপেক্ষায় কুড়িগ্রাম-(ফুলবাড়ীর) বাংটুর ঘাটে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চরম ভোগান্তি।

আপডেট সময় : ০৮:০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

​কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী ধরলা নদীর বাংটুর ঘাটে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই তীরের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে ধরলা নদী পার হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে এই যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত এবং মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হয় স্থানীয়দের।
​তীরবর্তী অধিবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে অনেক নেতা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর সেতুর দাবি আর আলোর মুখ দেখে না।​ফুলবাড়ী ও সদরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, গম, ভূট্টা শাকসবজি ও অন্যান্ন ফসল সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পেরে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
নদীর ওপারে স্বনামধন্য কলেজ স্কুল ও মাদ্রাসা থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছে।
কোনো জরুরি রোগীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এই নদী। উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা।
​স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মতে, বাংটুর ঘাটে একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু কুড়িগ্রাম সদরের সাথেই যোগাযোগ সহজ হবে না, বরং ফুলবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার সাথেও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।​ভুক্তভোগী জনপদের মানুষ এখন আর আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপ চায়। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কাটিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি এখন প্রায় দুই লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার জনস্বার্থে এই প্রকল্পে দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের “মানবেতর জীবনযাপন” থেকে মুক্তি দেবে।