ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় অন্য সব উপজেলা, অথচ অবহেলায় পড়ে আছে তাহিরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ!

উদ্বোধনের অপেক্ষায় অন্য সব উপজেলা, অথচ অবহেলায় পড়ে আছে তাহিরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ!

সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় সরকারি বরাদ্দকৃত মডেল মসজিদ ও উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করে ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সেসব মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। কিন্তু চরম বৈষম্য আর দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়ে এখনো কঙ্কালসার অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে তাহিরপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মসজিদের অর্ধেকের বেশি কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। ভবনের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও নেই কোনো ফিনিশিং ছোঁয়া। কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোথাও জন্মেছে আগাছা। অন্যান্য উপজেলায় যখন নান্দনিক স্থাপত্যে সরকারি মসজিদগুলো দৃশ্যমান, সেখানে তাহিরপুরে মসজিদের কাজ ৫০ শতাংশেই থমকে আছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ:
মসজিদে নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা অবাক হই যে জেলার অন্যান্য সব জায়গায় কাজ শেষ হয়ে উদ্বোধন হয়ে গেল, অথচ আমাদের এখানে বছরের পর বছর কাজ ঝুলে আছে। কেন এই ধীরগতি? আমরা কি তবে অবহেলার শিকার?”

বর্তমান অবস্থা:
নির্মাণাধীন মসজিদের পিলারে মরিচা ধরছে এবং অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় নির্মাণ সামগ্রীও নষ্ট হচ্ছে। অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি থাকায় ঠিক কবে নাগাদ এর নির্মাণ শেষ হবে, তা নিয়ে কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। এই বিলম্বের কারণে নির্মাণ ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ।

তাহিরপুর উপজেলাবাসী দ্রুত এই মসজিদের বাকি কাজ শেষ করে তা ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদারকির অভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাটি আজ অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় অন্য সব উপজেলা, অথচ অবহেলায় পড়ে আছে তাহিরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ!

আপডেট সময় : ০১:৫৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় সরকারি বরাদ্দকৃত মডেল মসজিদ ও উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করে ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সেসব মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। কিন্তু চরম বৈষম্য আর দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়ে এখনো কঙ্কালসার অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে তাহিরপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মসজিদের অর্ধেকের বেশি কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। ভবনের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও নেই কোনো ফিনিশিং ছোঁয়া। কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোথাও জন্মেছে আগাছা। অন্যান্য উপজেলায় যখন নান্দনিক স্থাপত্যে সরকারি মসজিদগুলো দৃশ্যমান, সেখানে তাহিরপুরে মসজিদের কাজ ৫০ শতাংশেই থমকে আছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ:
মসজিদে নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা অবাক হই যে জেলার অন্যান্য সব জায়গায় কাজ শেষ হয়ে উদ্বোধন হয়ে গেল, অথচ আমাদের এখানে বছরের পর বছর কাজ ঝুলে আছে। কেন এই ধীরগতি? আমরা কি তবে অবহেলার শিকার?”

বর্তমান অবস্থা:
নির্মাণাধীন মসজিদের পিলারে মরিচা ধরছে এবং অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় নির্মাণ সামগ্রীও নষ্ট হচ্ছে। অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি থাকায় ঠিক কবে নাগাদ এর নির্মাণ শেষ হবে, তা নিয়ে কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। এই বিলম্বের কারণে নির্মাণ ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ।

তাহিরপুর উপজেলাবাসী দ্রুত এই মসজিদের বাকি কাজ শেষ করে তা ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদারকির অভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাটি আজ অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।