ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটিতে বদলে গেছে চট্টগ্রাম! চিরচেনা জ্যামের শহর এখন একদম ফাঁকা

কোরবানি ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে চট্টগ্রাম মহানগর যেন একেবারেই বদলে গেছে। বছরের অধিকাংশ সময় যে শহর যানজট, হর্নের শব্দ আর মানুষের ভিড়ে অস্থির থাকে, সেই বন্দরনগরী এখন অনেকটাই নীরব ও ফাঁকা। ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় নগরজীবনে নেমে এসেছে এক ভিন্ন ধরনের শান্ত পরিবেশ।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর জিইসি মোড়, টাইগারপাস, নিউমার্কেট ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক দিনের ব্যস্ততা প্রায় অনুপস্থিত। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে।

সাধারণ দিনে যেখানে দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকে মানুষ, সেখানে এখন কয়েক মিনিটেই নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে যানবাহন। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য গণপরিবহনও চলছে স্বস্তিকর গতিতে।

জিইসি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালক রহিম উদ্দিন বলেন, সারা বছর এই মোড় পার হতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগে। এখন দুই–তিন মিনিটেই পার হয়ে যাচ্ছি। চাপ কম থাকায় কাজও অনেক স্বস্তিতে করা যাচ্ছে।

নগরীর টাইগারপাস এলাকাতেও দেখা যায় একই চিত্র। অফিসপাড়া হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় সাধারণত ভোর থেকেই মানুষের ভিড় থাকে। তবে ঈদের ছুটিতে সেখানে নেমে এসেছে এক ধরনের নীরবতা। হাতে গোনা কয়েকটি গাড়ি ছাড়া বড় যানবাহনের উপস্থিতি খুবই কম।

বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল করিম বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে এত শান্ত খুব কমই দেখা যায়। মনে হচ্ছে শহরটা কিছুদিনের জন্য একটু বিশ্রাম নিচ্ছে।

নিউমার্কেট এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক কোলাহল নেই। সাধারণ দিনে যে এলাকা ক্রেতা ও পথচারীতে মুখর থাকে, সেখানে এখন ছড়িয়ে–ছিটিয়ে কয়েকজন মানুষ ও অল্প কিছু খোলা দোকান দেখা গেছে।

টঙ দোকানের চা বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বিক্রি কম, তবে পরিবেশ শান্ত। ভিড় না থাকায় কাজের চাপও কম।

অন্যদিকে শাহ আমানত সেতু এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চাপ অনেক কম। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী কিছু যান ছাড়া সেতুতে তেমন ভিড় নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ঈদের ছুটিতে বদলে গেছে চট্টগ্রাম! চিরচেনা জ্যামের শহর এখন একদম ফাঁকা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কোরবানি ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে চট্টগ্রাম মহানগর যেন একেবারেই বদলে গেছে। বছরের অধিকাংশ সময় যে শহর যানজট, হর্নের শব্দ আর মানুষের ভিড়ে অস্থির থাকে, সেই বন্দরনগরী এখন অনেকটাই নীরব ও ফাঁকা। ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় নগরজীবনে নেমে এসেছে এক ভিন্ন ধরনের শান্ত পরিবেশ।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর জিইসি মোড়, টাইগারপাস, নিউমার্কেট ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক দিনের ব্যস্ততা প্রায় অনুপস্থিত। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে।

সাধারণ দিনে যেখানে দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকে মানুষ, সেখানে এখন কয়েক মিনিটেই নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে যানবাহন। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য গণপরিবহনও চলছে স্বস্তিকর গতিতে।

জিইসি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালক রহিম উদ্দিন বলেন, সারা বছর এই মোড় পার হতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগে। এখন দুই–তিন মিনিটেই পার হয়ে যাচ্ছি। চাপ কম থাকায় কাজও অনেক স্বস্তিতে করা যাচ্ছে।

নগরীর টাইগারপাস এলাকাতেও দেখা যায় একই চিত্র। অফিসপাড়া হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় সাধারণত ভোর থেকেই মানুষের ভিড় থাকে। তবে ঈদের ছুটিতে সেখানে নেমে এসেছে এক ধরনের নীরবতা। হাতে গোনা কয়েকটি গাড়ি ছাড়া বড় যানবাহনের উপস্থিতি খুবই কম।

বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল করিম বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে এত শান্ত খুব কমই দেখা যায়। মনে হচ্ছে শহরটা কিছুদিনের জন্য একটু বিশ্রাম নিচ্ছে।

নিউমার্কেট এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক কোলাহল নেই। সাধারণ দিনে যে এলাকা ক্রেতা ও পথচারীতে মুখর থাকে, সেখানে এখন ছড়িয়ে–ছিটিয়ে কয়েকজন মানুষ ও অল্প কিছু খোলা দোকান দেখা গেছে।

টঙ দোকানের চা বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বিক্রি কম, তবে পরিবেশ শান্ত। ভিড় না থাকায় কাজের চাপও কম।

অন্যদিকে শাহ আমানত সেতু এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চাপ অনেক কম। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী কিছু যান ছাড়া সেতুতে তেমন ভিড় নেই।