ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যু,দ্ধে লাভবান রাশিয়া, বদলে যাচ্ছে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের সমীকরণ

ইরান যু,দ্ধে লাভবান রাশিয়া, বদলে যাচ্ছে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের অপ্রত্যাশিত সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে রাশিয়া। সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং বিকল্প উৎসের খোঁজে ছুটছে ক্রেতারা। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন সস্তায় পাওয়া রুশ তেল এখন আবারও মূল্যবান ও চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠেছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ছাড়ে বিক্রি হচ্ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মস্কোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল তেলের দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, জাহাজ পরিবহন, বীমা ও আর্থিক সেবায় বিধি-নিষেধ। এর উদ্দেশ্য ছিল ক্রেমলিনের জ্বালানি আয় কমিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করা।

এসব বিধি-নিষেধের কারণে রাশিয়াকে ক্রেতা আকর্ষণ করতে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে কম দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় প্রতি ব্যারেল রুশ তেলের দাম ১০ থেকে ১৩ ডলার কম ছিল।

তবে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সমীকরণ দ্রুত বদলে দিয়েছে। পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি  পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকিতে তেলবাজারে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বীমা খরচ বেড়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া সুযোগ পেয়েছে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার। এশিয়ার বাজারে আগে থেকেই স্থাপিত বাণিজ্যপথ ও বড় রপ্তানি সক্ষমতার কারণে রাশিয়া দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণের অবস্থানে রয়েছে।

যেখানে আগে বড় ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি করতে হতো, এখন পরিস্থিতি উল্টো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ইরান যু,দ্ধে লাভবান রাশিয়া, বদলে যাচ্ছে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের সমীকরণ

আপডেট সময় : ০৬:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের অপ্রত্যাশিত সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে রাশিয়া। সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং বিকল্প উৎসের খোঁজে ছুটছে ক্রেতারা। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন সস্তায় পাওয়া রুশ তেল এখন আবারও মূল্যবান ও চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠেছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ছাড়ে বিক্রি হচ্ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মস্কোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল তেলের দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, জাহাজ পরিবহন, বীমা ও আর্থিক সেবায় বিধি-নিষেধ। এর উদ্দেশ্য ছিল ক্রেমলিনের জ্বালানি আয় কমিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করা।

এসব বিধি-নিষেধের কারণে রাশিয়াকে ক্রেতা আকর্ষণ করতে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে কম দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় প্রতি ব্যারেল রুশ তেলের দাম ১০ থেকে ১৩ ডলার কম ছিল।

তবে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সমীকরণ দ্রুত বদলে দিয়েছে। পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি  পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকিতে তেলবাজারে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বীমা খরচ বেড়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া সুযোগ পেয়েছে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার। এশিয়ার বাজারে আগে থেকেই স্থাপিত বাণিজ্যপথ ও বড় রপ্তানি সক্ষমতার কারণে রাশিয়া দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণের অবস্থানে রয়েছে।

যেখানে আগে বড় ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি করতে হতো, এখন পরিস্থিতি উল্টো।