ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পরিবেশবাদী, সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠন অভয়ারণ্যের উদ্যোগে কুহেলিকা উৎসব আয়োজিত হয়েছে। উৎসবটি গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে যা আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অনুষ্ঠিত হবে।
কুহেলিকা উৎসবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, শীতের সকালে কুয়াশার ভেতর ঢুকে পড়ে সে কুহেলিকা উৎসবে। পিঠার গন্ধে মনে পড়ে যায় নানাবাড়ির উঠান, মায়ের হাতে বানানো ভাপা পিঠা। নকশি কাঁথা দেখে মনে হচ্ছে সংস্কৃতি শুধু পড়ার বিষয় না, ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি। চিঠি বাক্সের সামনে এসে নিজের না বলা কথা, না লেখা স্বপ্নগুলো মনে পড়ে। শীতের হালকা ঠান্ডা তার ভেতরের আগুনকে নেভাতে পারে না। বন্ধুদের নিয়ে হাসি, ছবি, আড্ডা—সব মিলিয়ে উৎসবটাই আমাদের কাছে আনন্দ। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের মন থাকে উচ্ছ্বসিত, উদ্দীপনায় ভরা ও সংযোগমুখী।
অভয়ারণ্যের সভাপতি নাঈমুল ফারাবী বলেন, অভয়ারণ্য কর্তৃক টানা চতুর্থবারের মতো কুহেলিকা উৎসব আয়োজন করেছি। এই আয়োজনে অন্যতম উদ্দেশ্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্ত যারা আছেন তাদের একটি সুন্দর প্লাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া যাতে তাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজের সার্ভিস, নিজের যেই প্রতিষ্ঠান আছে সেটার প্রচারণা করতে পারে এবং সেটি প্রসারের একটি মাধ্যম হিসাবে আমাদেরকে ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া আমরা এই উৎসবের আমেজ ধরে রাখতে অনেক গুলো সেগমেন্ট এই উৎসবের সাথে যুক্ত করেছি। যার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হিসাবে আছে চিঠি বাক্স। চিঠি বাক্সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো স্টুডেন্ট, অন্য যেকোনো স্টুডেন্টের কাছে চিঠি দিতে পারে এবং আমরা ডাক পিয়নের ভূমিকায় সে চিঠি পৌঁছে দেই। এছাড়া আমাদের বাঙালী সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য বায়স্কোপ এবং পুতুল নাচ প্রদশর্ন করে আসার নজির রয়েছে।
এই কুহেলিকা উৎসবের একটি কালচারাল সেগমেন্ট আছে। কুহেলিকা উৎসবের কালচারাল সেগমেন্টের বিশেষ পার্ট হলো রঞ্জন। তৃতীয় বারের মতে রঞ্জন আয়োজন করছি। এই রঞ্জনের উদ্দেশ্য মৌলিক সংস্কৃতি চর্চা, যেখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের নিজেদের লেখা এবং নিজেদের রচিত গান,কবিতা,নাটক পাঠ করা হয় আমাদের রঞ্জনের স্টেজে। খুব সুন্দর একটি আয়োজন আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের উপহার দিতে চাই, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা আমাদের প্রতিবারের ন্যায় এইবারও সহযোগিতা করবে।
উল্লেখ্য, এই উৎসবে কয়েক ধরনের দোকান দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে পিঠা, কসমেটিকস,বই , নকশি কাঁথা ও চিঠি বাক্স। এছাড়াও রয়েছে নাগরদোলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।






















