ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় ধান কাটার ধুম, কালবৈশাখীর আতঙ্কে সময়ের সঙ্গে লড়াই কৃষকের।

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এখন মাঠজুড়ে পাকা ইরি ধানের সোনালি আভা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে কৃষকরা ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এরই মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তাও বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দলবদ্ধভাবে ধান কাটছেন কৃষকরা। কোথাও হাতে ধান কাটা হচ্ছে, আবার কোথাও আধুনিক হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠের পাশেই কিংবা বাড়ির আঙিনায় ধান মাড়াই ও শুকানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে সর্বত্র। নতুন ইরি ধানের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে গ্রামীণ পরিবেশ।
গৈলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক বাবু সরদার বলেন, “গতবারের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তবে শুরুতে জ্বালানি তেলের সংকটে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।”
অন্য কৃষক হান্নান সরদার জানান, “খরার প্রভাবের পাশাপাশি এখন শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড় শুরু হওয়ায় চিন্তা বাড়ছে।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আগৈলঝাড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে এবং ফলন সন্তোষজনক। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসা জানান, কৃষকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু কৃষকের মাঝে ধান মাড়াইয়ের মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ধান কাটার এই মৌসুমে কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনোভাবে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কাটা ও ঘরে তোলার কাজ শেষ করতে চান কৃষকরা। অকাল বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় তারা কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন।
সব মিলিয়ে, আগৈলঝাড়ার কৃষকদের মধ্যে এখন একদিকে ব্যস্ততা, অন্যদিকে স্বস্তি ও উদ্বেগের মিশ্র চিত্র বিরাজ করছে। ভালো ফলনের আশা নিয়ে তারা ঘরে তুলছেন সোনালি ফসল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আগৈলঝাড়ায় ধান কাটার ধুম, কালবৈশাখীর আতঙ্কে সময়ের সঙ্গে লড়াই কৃষকের।

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এখন মাঠজুড়ে পাকা ইরি ধানের সোনালি আভা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে কৃষকরা ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এরই মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তাও বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দলবদ্ধভাবে ধান কাটছেন কৃষকরা। কোথাও হাতে ধান কাটা হচ্ছে, আবার কোথাও আধুনিক হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠের পাশেই কিংবা বাড়ির আঙিনায় ধান মাড়াই ও শুকানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে সর্বত্র। নতুন ইরি ধানের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে গ্রামীণ পরিবেশ।
গৈলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক বাবু সরদার বলেন, “গতবারের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তবে শুরুতে জ্বালানি তেলের সংকটে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।”
অন্য কৃষক হান্নান সরদার জানান, “খরার প্রভাবের পাশাপাশি এখন শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড় শুরু হওয়ায় চিন্তা বাড়ছে।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আগৈলঝাড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে এবং ফলন সন্তোষজনক। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসা জানান, কৃষকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু কৃষকের মাঝে ধান মাড়াইয়ের মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ধান কাটার এই মৌসুমে কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনোভাবে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কাটা ও ঘরে তোলার কাজ শেষ করতে চান কৃষকরা। অকাল বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় তারা কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন।
সব মিলিয়ে, আগৈলঝাড়ার কৃষকদের মধ্যে এখন একদিকে ব্যস্ততা, অন্যদিকে স্বস্তি ও উদ্বেগের মিশ্র চিত্র বিরাজ করছে। ভালো ফলনের আশা নিয়ে তারা ঘরে তুলছেন সোনালি ফসল।