বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় তিন কলেজ শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একটি অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আগৈলঝাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাসিন্দা এস এম বাদশা (৬১) অভিযোগ করেন, তার ছেলে ইব্রাহিম হাসান ফুয়াদ (২০) ঢাকার একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি সে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। গত ৯ মে রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ দুষুমী বাজার এলাকায় এক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করার সময় ইব্রাহিমসহ একই এলাকার আরও দুই কলেজ শিক্ষার্থী—জিহাদ ও নাইম মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
পরে থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ, পিসিপিআর যাচাই এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কোনো ধরনের অপরাধের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তিনজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু পরদিন (১০ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একটি ফেসবুক পেজ ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ওই তিন শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে এবং অর্থের বিনিময়ে থানার মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার এই সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা তথ্যের সত্যতা যাচাই করেননি। এতে শিক্ষার্থীদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে এবং পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, পুলিশকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “আমরা মাদক নির্মূলে অঙ্গীকারবদ্ধ। মাদকের সঙ্গে কোনো আপোষ নেই। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর নির্দোষ কাউকে হয়রানির সুযোগ নেই।”
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা প্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।






















