ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী বর্ষায় ৮০ শতাংশ এলাকা জলমগ্নতা থেকে মুক্ত থাকবে: চসিক মেয়র।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার বাণী শুনিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, কার্যকর পদক্ষেপের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা জলজটমুক্ত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম নগর জলাবদ্ধতা সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিস্থিতির উন্নতির দাবি
মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও চকবাজার এলাকায় যে ভয়াবহ পানিবন্দি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এবারের বর্ষায় নগরবাসী এর সুফল আরও বেশি পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক বৈশাখ মাসের অতিবৃষ্টির উদাহরণ টেনে বলেন, “টানা কয়েক ঘণ্টা ভারী বর্ষণ একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল, যা সাময়িকভাবে কিছুটা ভোগান্তি বাড়িয়েছে।”

জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মেয়র উল্লেখ করেন যে, সিডিএ-এর অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে হিজড়া খাল, জামালখান ও রামপুরা খালের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্মাণাধীন বাঁধগুলো সময়মতো না খোলায় কিছু এলাকায় পানি জমেছে। এর সাথে জোয়ার ও বৃষ্টির পানি মিলিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল আকার ধারণ করে।

বর্তমানে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান:

দুই মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কারের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চলছে।

স্লুইস গেট ও পাম্পিং স্টেশনগুলো পুরোপুরি সচল হলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন আসবে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এই সেমিনারটি উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম।

সেমিনারে বক্তারা নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে পরিকল্পিত নগরায়ন ও নাগরিকদের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নগর পরিকল্পনাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী বর্ষায় ৮০ শতাংশ এলাকা জলমগ্নতা থেকে মুক্ত থাকবে: চসিক মেয়র।

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার বাণী শুনিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, কার্যকর পদক্ষেপের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা জলজটমুক্ত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম নগর জলাবদ্ধতা সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিস্থিতির উন্নতির দাবি
মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও চকবাজার এলাকায় যে ভয়াবহ পানিবন্দি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এবারের বর্ষায় নগরবাসী এর সুফল আরও বেশি পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক বৈশাখ মাসের অতিবৃষ্টির উদাহরণ টেনে বলেন, “টানা কয়েক ঘণ্টা ভারী বর্ষণ একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল, যা সাময়িকভাবে কিছুটা ভোগান্তি বাড়িয়েছে।”

জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মেয়র উল্লেখ করেন যে, সিডিএ-এর অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে হিজড়া খাল, জামালখান ও রামপুরা খালের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্মাণাধীন বাঁধগুলো সময়মতো না খোলায় কিছু এলাকায় পানি জমেছে। এর সাথে জোয়ার ও বৃষ্টির পানি মিলিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল আকার ধারণ করে।

বর্তমানে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান:

দুই মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কারের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চলছে।

স্লুইস গেট ও পাম্পিং স্টেশনগুলো পুরোপুরি সচল হলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন আসবে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এই সেমিনারটি উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম।

সেমিনারে বক্তারা নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে পরিকল্পিত নগরায়ন ও নাগরিকদের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নগর পরিকল্পনাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।