ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসহায় রোজিনা খাতুনের অধ্যম্ম ইচ্ছা শক্তিই হয়েছিল সাফল্যের চাবি কাঠি।

অসহায় রোজিনা খাতুনের অধ্যম্ম ইচ্ছা শক্তিই হয়েছিল সাফল্যের চাবি কাঠি।

পত্নীতলা উপজেলার অত্যান্ত প্রত্যন্ত শিবপুর নামের গ্রামে গরিব ঘরে, এইচ.এস.সি ১ম বর্ষে থাকতেই রোজিনা খাতুনের বিবাহ হয়। কিন্ত তাঁর ছিল পড়ালেখা প্রবল ইচ্ছা। স্বামী সামান্য বেতনের প্রাইভেট ক্লিনিকে ওটি ইনচার্জ পদে চাকুরি করতেন। স্ত্রী রোজিনা খাতুনের লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে শত কষ্ঠের মধ্যেও স্বামী পড়ালেখা খরচ চালিয়ে যায়। ২০০৫ সালে নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ হতে এইচ.এস.সি সন্মানের সহিত পাশ করেন।২০১১ সালে সেশন জোট হওয়ায় নওগাঁ সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হতে বি.এস.সি(অনার্স) গণিত বিষয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেন।ঠিক ঐ সময়ে তাঁর স্বামী দূর্ভাগ্য বসত একটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে নওগাঁ জেল কারাগারে হাজত বাস হয়। এ অবস্থায় ভেঙ্গে না পড়ে তিনি পড়ালেখা মনোযোগ দিয়ে ২০১৩ সালে ঐ কলেজ হতে এম.এস.সি (মাস্টার্স) গণিত প্রথম বিভাগে পাশ করেন এবং এ সময়ে হাইস্কুল ও কলেজ শিক্ষক নিবন্ধনপরীক্ষায় পাশ করেন।

একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০১৫ সালে ১লা জুনে সাধারণ বিজ্ঞান ও গণিতে যোগদান করে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। অথচ সেই বালিকা বিদ্যালয় হতে নিজে ২০০৩ সালে এস.এস সি পাশ করেন। শিক্ষকতা চাকুরি অবস্থায় ২০১৬ সালে রাজশাহী টি.টি কলেজ হতে বি.এড এবং ২০১৮ সালে এম.এড কৃতিত্তের সাথে পাশ করেন। এম.এড পরীক্ষায় মেধার সহিত পাশ করায় তিনি সরকারি আর্থিক অনুদান পেয়েছিলেন।

বর্তমান ১০ বছর শিক্ষকতা করার বয়স চলছে। এর মধ্যে তিনি অনেক গুলি কৃতিত্ত অর্জন করেছেন, সে গুলো হলো সেরা কন্টেন নির্মাতা ২০২০, জেলা এম্বেসিডর ২০২১, উপজেলা মাস্টার ট্রেইনার (গণিত) দায়িত্ব পান ২০২৩, উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক নির্বাচিত ২০২৪, এবং ঐ সালে জয়ীতা হিসাবে বিজয়ীহন। সব শেষে ২০২৫ সালে উপজেলা বেসরকারি শিক্ষক সমিতি ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে মহিলা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

একজন নারী হয়ে আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কিভাবে স্বপ্ন জয় করতে পারে এই নারী জলন্ত উদহারণ। সংসারে টানা পোড়ন এবং স্বামীর মহা বিপদ এ সব কিছুই তাঁর অধিষ্ট চুড়ায় পৌছাতে বাধাঁ হতে পারেনি। অসহায় অবলা নারী হয়েও দারিদ্রের কষাঘাতে এবং সংসার নামক যুদ্ধ চালিয়ে তাঁর অধ্যম্ম ইচ্ছা শক্তিই স্বপ্ন পুরুনের হাতিয়ার হয়েছে। কোন বিপদের আসংখা দমাতে পারেনি,পাড়া প্রতিবেশি নানান কথা ওপেক্ষা করে, অসহায়াত্ব ছুড়ে ফেলে তিনি ছুটে চলেছেন অনাবরত দূর্বার গতিতে, নারী যে অবলা নয় তা প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন। সে একজন প্রতিষ্ঠিত জয়তী নারী।

সাক্ষাতে তাঁর আবেগ ঘন অনুভূতির কথা গুলো বলেন যে, এ সাফল্যের অন্তরালে যারা আছেন তাঁরা হলেন শ্রদ্বেয় বাবা মা সকল বিদ্যালয়ের শ্রদ্বেয় শিক্ষক মন্ডলীর অবদান। পরিশেষে সর্বদা পাশে থেকে সাহস ও উদ্ধামি হতে শিখিয়েছে তা আমার স্বামী। শিক্ষার্থীর উদ্যেশে তিনি বলেন, কঠর পরিশ্রম, একনিষ্ঠ মনোবল নানান প্রতিকুলতার মাঝেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

অসহায় রোজিনা খাতুনের অধ্যম্ম ইচ্ছা শক্তিই হয়েছিল সাফল্যের চাবি কাঠি।

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পত্নীতলা উপজেলার অত্যান্ত প্রত্যন্ত শিবপুর নামের গ্রামে গরিব ঘরে, এইচ.এস.সি ১ম বর্ষে থাকতেই রোজিনা খাতুনের বিবাহ হয়। কিন্ত তাঁর ছিল পড়ালেখা প্রবল ইচ্ছা। স্বামী সামান্য বেতনের প্রাইভেট ক্লিনিকে ওটি ইনচার্জ পদে চাকুরি করতেন। স্ত্রী রোজিনা খাতুনের লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে শত কষ্ঠের মধ্যেও স্বামী পড়ালেখা খরচ চালিয়ে যায়। ২০০৫ সালে নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ হতে এইচ.এস.সি সন্মানের সহিত পাশ করেন।২০১১ সালে সেশন জোট হওয়ায় নওগাঁ সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হতে বি.এস.সি(অনার্স) গণিত বিষয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেন।ঠিক ঐ সময়ে তাঁর স্বামী দূর্ভাগ্য বসত একটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে নওগাঁ জেল কারাগারে হাজত বাস হয়। এ অবস্থায় ভেঙ্গে না পড়ে তিনি পড়ালেখা মনোযোগ দিয়ে ২০১৩ সালে ঐ কলেজ হতে এম.এস.সি (মাস্টার্স) গণিত প্রথম বিভাগে পাশ করেন এবং এ সময়ে হাইস্কুল ও কলেজ শিক্ষক নিবন্ধনপরীক্ষায় পাশ করেন।

একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০১৫ সালে ১লা জুনে সাধারণ বিজ্ঞান ও গণিতে যোগদান করে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। অথচ সেই বালিকা বিদ্যালয় হতে নিজে ২০০৩ সালে এস.এস সি পাশ করেন। শিক্ষকতা চাকুরি অবস্থায় ২০১৬ সালে রাজশাহী টি.টি কলেজ হতে বি.এড এবং ২০১৮ সালে এম.এড কৃতিত্তের সাথে পাশ করেন। এম.এড পরীক্ষায় মেধার সহিত পাশ করায় তিনি সরকারি আর্থিক অনুদান পেয়েছিলেন।

বর্তমান ১০ বছর শিক্ষকতা করার বয়স চলছে। এর মধ্যে তিনি অনেক গুলি কৃতিত্ত অর্জন করেছেন, সে গুলো হলো সেরা কন্টেন নির্মাতা ২০২০, জেলা এম্বেসিডর ২০২১, উপজেলা মাস্টার ট্রেইনার (গণিত) দায়িত্ব পান ২০২৩, উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক নির্বাচিত ২০২৪, এবং ঐ সালে জয়ীতা হিসাবে বিজয়ীহন। সব শেষে ২০২৫ সালে উপজেলা বেসরকারি শিক্ষক সমিতি ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে মহিলা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

একজন নারী হয়ে আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কিভাবে স্বপ্ন জয় করতে পারে এই নারী জলন্ত উদহারণ। সংসারে টানা পোড়ন এবং স্বামীর মহা বিপদ এ সব কিছুই তাঁর অধিষ্ট চুড়ায় পৌছাতে বাধাঁ হতে পারেনি। অসহায় অবলা নারী হয়েও দারিদ্রের কষাঘাতে এবং সংসার নামক যুদ্ধ চালিয়ে তাঁর অধ্যম্ম ইচ্ছা শক্তিই স্বপ্ন পুরুনের হাতিয়ার হয়েছে। কোন বিপদের আসংখা দমাতে পারেনি,পাড়া প্রতিবেশি নানান কথা ওপেক্ষা করে, অসহায়াত্ব ছুড়ে ফেলে তিনি ছুটে চলেছেন অনাবরত দূর্বার গতিতে, নারী যে অবলা নয় তা প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন। সে একজন প্রতিষ্ঠিত জয়তী নারী।

সাক্ষাতে তাঁর আবেগ ঘন অনুভূতির কথা গুলো বলেন যে, এ সাফল্যের অন্তরালে যারা আছেন তাঁরা হলেন শ্রদ্বেয় বাবা মা সকল বিদ্যালয়ের শ্রদ্বেয় শিক্ষক মন্ডলীর অবদান। পরিশেষে সর্বদা পাশে থেকে সাহস ও উদ্ধামি হতে শিখিয়েছে তা আমার স্বামী। শিক্ষার্থীর উদ্যেশে তিনি বলেন, কঠর পরিশ্রম, একনিষ্ঠ মনোবল নানান প্রতিকুলতার মাঝেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।