ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্ধকারে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: দেখার যেন কেউ নেই

অন্ধকারে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: দেখার যেন কেউ নেই

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল ‘মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ এখন নিজেই যেন অসুস্থ। তীব্র গরমে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হলেই পুরো হাসপাতাল এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। জেনারেটর বিকল আর নামমাত্র আইপিএস সেবা—সব মিলিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এখন চরম সংকটের মুখে।

গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। গরমে সাধারণ রোগী ও নবজাতকদের হাঁসফাঁস অবস্থা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এটি মেরামতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিকল্প হিসেবে যে আইপিএস ব্যবস্থা রয়েছে, তাও পর্যাপ্ত নয়। চার্জ না থাকায় লোডশেডিংয়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই আইপিএস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অন্ধকারের পাশাপাশি ফ্যানও বন্ধ হয়ে যায়, যা এই ভ্যাপসা গরমে রোগীদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার থেকে সব সুযোগ-সুবিধা আসার কথা থাকলেও এখানে জেনারেটর চলে না। লোডশেডিং হলে বাচ্চারা গরমে কান্নাকাটি করে। অন্ধকার ওয়ার্ডে চোর-আতঙ্কও থাকে। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ দেখার কি কেউ নেই?

​আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, রাতে অন্ধকার হওয়ায় টয়লেটে যেতে বা নার্সদের ডাকতেও হিমশিম খেতে হয়। জরুরি কোনো রোগী আসলে অন্ধকারের কারণে চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।

​তবে সাধারণ জনগণের প্রশ্ন—একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কেন বছরের পর বছর বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিকল থাকবে? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগে মোমবাতি বা টর্চের আলোয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্ধকারে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: দেখার যেন কেউ নেই

আপডেট সময় : ১২:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল ‘মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ এখন নিজেই যেন অসুস্থ। তীব্র গরমে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হলেই পুরো হাসপাতাল এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। জেনারেটর বিকল আর নামমাত্র আইপিএস সেবা—সব মিলিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এখন চরম সংকটের মুখে।

গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। গরমে সাধারণ রোগী ও নবজাতকদের হাঁসফাঁস অবস্থা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এটি মেরামতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিকল্প হিসেবে যে আইপিএস ব্যবস্থা রয়েছে, তাও পর্যাপ্ত নয়। চার্জ না থাকায় লোডশেডিংয়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই আইপিএস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অন্ধকারের পাশাপাশি ফ্যানও বন্ধ হয়ে যায়, যা এই ভ্যাপসা গরমে রোগীদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার থেকে সব সুযোগ-সুবিধা আসার কথা থাকলেও এখানে জেনারেটর চলে না। লোডশেডিং হলে বাচ্চারা গরমে কান্নাকাটি করে। অন্ধকার ওয়ার্ডে চোর-আতঙ্কও থাকে। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ দেখার কি কেউ নেই?

​আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, রাতে অন্ধকার হওয়ায় টয়লেটে যেতে বা নার্সদের ডাকতেও হিমশিম খেতে হয়। জরুরি কোনো রোগী আসলে অন্ধকারের কারণে চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।

​তবে সাধারণ জনগণের প্রশ্ন—একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কেন বছরের পর বছর বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিকল থাকবে? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগে মোমবাতি বা টর্চের আলোয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।