ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে: চেক জালিয়াতির মিথ্যা মামলায় মধ্যবিত্ত গৃহবধূর আত্মসমর্পণ

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 82

​ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিয়ে, প্রতারণা এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে চেক ও স্টাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক চক্রের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার জেরে দায়ের করা চেক ডিজঅনারের মিথ্যা মামলায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আদালতে আত্মসমর্পণ (সিলেন্ডার) করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন মিতু নামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান গৃহবধূ।
​আজ ১৩ আগস্ট ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার সকালে ৫ লাখ টাকার একটি মামলায় ওয়্যারেন্টভুক্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হন।
​ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবিনা ইয়াসমিন মিতু মাত্র ১৯ বছর বয়সে আকরাম হোসেন মাঈনুল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের মাত্র তিন মাস সংসার করার পরই সাবিনা দেখতে পান যে, তার স্বামী আকরাম মাদক ব্যবসা এবং মানবপাচারের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি তিনি তার পরিবারকে জানান এবং পরবর্তীতে অনুসন্ধান শুরু হয়।
​তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আকরাম হোসেন মাঈনুল মূলত ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে (রংপুর ও নীলফামারীর ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে) সাবিনাকে বিয়ে করেছিলেন। এছাড়া তার আসল বাড়ি কুমিল্লা জেলায় এবং পূর্বেই তার আরও একটি সংসার ও সন্তান রয়েছে—যা বিয়ের সময় সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছিল।
​ব্ল্যাকমেইল ও মামলার জ্বালীয়াতিব​স্বামীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জানতে পেরে সাবিনা ইয়াসমিনকে আকরাম ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন। ডিভোর্সের পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আকরাম। অভিযোগ রয়েছে, সংসারকালে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে স্ত্রীর নামে অ্যাকাউন্ট খুলে তিনটি চেকে এবং বিয়ের বিভিন্ন কাগজপত্রের কথা বলে ৮টি খালি স্টাম্পে সাবিনার স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন আকরাম।
​সেই ফাঁদ পাতা চেক ও স্টাম্প ব্যবহার করে পরবর্তীতে মিথ্যা মামলার পাহাড় গড়ে তোলা হয়। আকরাম তার বন্ধু পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার শফিকুল ইসলামকে বাদী বানিয়ে পঞ্চগড় আদালতে ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক মামলা করান। এছাড়া আরেক বন্ধু শিমুলকে দিয়ে রংপুরে ৫ লক্ষ টাকা এবং নিজে বাদী হয়ে রংপুরে ২১ লক্ষ টাকার আরও একটি মামলা দায়ের করেন। সাবিনাকে দ্বিতীয় সংসার করতে না দেওয়া এবং তার জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য এভাবে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল।
এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে আপত্তিকর ভিডিও বানিয়ে এবং এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে পোস্ট করাতো আকরাম হোসেন মাঈনুল, আদালতে আত্মসমর্পণ ও ন্যায়বিচারের আকুতি
​আজ আদালতে আত্মসমর্পণের পর সংবাদমাধ্যমকে সাবিনা ইয়াসমিন মিতু বলেন,
​”আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো অতিরিক্ত আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। তবে আমি শতভাগ বিশ্বাস করি, উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে আমি ন্যায়বিচার পাবো। আমি সত্যের জয় হওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
​তিনি আরও অভিযোগ করেন, আকরাম হোসেন মাঈনুল তাকে বিদেশে পাচার করার বহু চেষ্টা চালিয়েছিল। মদের নেশায় বুঁদ হয়ে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাদক সেবন করে তাকে প্রায়ই নির্যাতন ও রক্তাক্ত করা হতো। অবৈধ টাকার জোরে আকরাম বিভিন্ন অপকর্ম ও নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন এই গৃহবধূ।
​সাবিনা আক্ষেপ করে বলেন, “এই ধরনের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের খপ্পরে পড়ে বহু নারীর সংসার ও স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমি এসবের সুষ্ঠু ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চাই। হাইকোর্টের মাধ্যমে সত্যের জয় হবে এবং এই অপরাধী চক্রের উপযুক্ত বিচার দেশের মানুষের কাছে আমি

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে: চেক জালিয়াতির মিথ্যা মামলায় মধ্যবিত্ত গৃহবধূর আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

​ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিয়ে, প্রতারণা এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে চেক ও স্টাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক চক্রের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার জেরে দায়ের করা চেক ডিজঅনারের মিথ্যা মামলায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আদালতে আত্মসমর্পণ (সিলেন্ডার) করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন মিতু নামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান গৃহবধূ।
​আজ ১৩ আগস্ট ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার সকালে ৫ লাখ টাকার একটি মামলায় ওয়্যারেন্টভুক্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হন।
​ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবিনা ইয়াসমিন মিতু মাত্র ১৯ বছর বয়সে আকরাম হোসেন মাঈনুল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের মাত্র তিন মাস সংসার করার পরই সাবিনা দেখতে পান যে, তার স্বামী আকরাম মাদক ব্যবসা এবং মানবপাচারের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি তিনি তার পরিবারকে জানান এবং পরবর্তীতে অনুসন্ধান শুরু হয়।
​তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আকরাম হোসেন মাঈনুল মূলত ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে (রংপুর ও নীলফামারীর ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে) সাবিনাকে বিয়ে করেছিলেন। এছাড়া তার আসল বাড়ি কুমিল্লা জেলায় এবং পূর্বেই তার আরও একটি সংসার ও সন্তান রয়েছে—যা বিয়ের সময় সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছিল।
​ব্ল্যাকমেইল ও মামলার জ্বালীয়াতিব​স্বামীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জানতে পেরে সাবিনা ইয়াসমিনকে আকরাম ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন। ডিভোর্সের পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আকরাম। অভিযোগ রয়েছে, সংসারকালে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে স্ত্রীর নামে অ্যাকাউন্ট খুলে তিনটি চেকে এবং বিয়ের বিভিন্ন কাগজপত্রের কথা বলে ৮টি খালি স্টাম্পে সাবিনার স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন আকরাম।
​সেই ফাঁদ পাতা চেক ও স্টাম্প ব্যবহার করে পরবর্তীতে মিথ্যা মামলার পাহাড় গড়ে তোলা হয়। আকরাম তার বন্ধু পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার শফিকুল ইসলামকে বাদী বানিয়ে পঞ্চগড় আদালতে ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক মামলা করান। এছাড়া আরেক বন্ধু শিমুলকে দিয়ে রংপুরে ৫ লক্ষ টাকা এবং নিজে বাদী হয়ে রংপুরে ২১ লক্ষ টাকার আরও একটি মামলা দায়ের করেন। সাবিনাকে দ্বিতীয় সংসার করতে না দেওয়া এবং তার জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য এভাবে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল।
এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে আপত্তিকর ভিডিও বানিয়ে এবং এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে পোস্ট করাতো আকরাম হোসেন মাঈনুল, আদালতে আত্মসমর্পণ ও ন্যায়বিচারের আকুতি
​আজ আদালতে আত্মসমর্পণের পর সংবাদমাধ্যমকে সাবিনা ইয়াসমিন মিতু বলেন,
​”আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো অতিরিক্ত আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। তবে আমি শতভাগ বিশ্বাস করি, উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে আমি ন্যায়বিচার পাবো। আমি সত্যের জয় হওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
​তিনি আরও অভিযোগ করেন, আকরাম হোসেন মাঈনুল তাকে বিদেশে পাচার করার বহু চেষ্টা চালিয়েছিল। মদের নেশায় বুঁদ হয়ে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাদক সেবন করে তাকে প্রায়ই নির্যাতন ও রক্তাক্ত করা হতো। অবৈধ টাকার জোরে আকরাম বিভিন্ন অপকর্ম ও নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন এই গৃহবধূ।
​সাবিনা আক্ষেপ করে বলেন, “এই ধরনের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের খপ্পরে পড়ে বহু নারীর সংসার ও স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমি এসবের সুষ্ঠু ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চাই। হাইকোর্টের মাধ্যমে সত্যের জয় হবে এবং এই অপরাধী চক্রের উপযুক্ত বিচার দেশের মানুষের কাছে আমি