ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলের ‘সেঞ্চুরি’তে ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙল বিশ্বকাপ ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই যেন বইছে গোলের বন্যা। প্রতিদিনই একের পর এক ম্যাচে জালের দেখা মিলছে, তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৬৮ বছরের পুরোনো এক কীর্তিকে ছুঁয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপ। 

শনিবার নেদারল্যান্ডসের ৫-১ গোলের দুর্দান্ত জয়ে সুইডেনকে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে টুর্নামেন্টের ১০০তম গোলটি করেন ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। আর সেই গোলের মধ্য দিয়েই মাত্র ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে বিশ্বকাপ ২০২৬।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১০০ গোলের মাইলফলকে এত দ্রুত পৌঁছানোর ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে।

সে আসরেও ৩৩ ম্যাচে শততম গোল হয়েছিল। তবে সবচেয়ে দ্রুত এই কীর্তি গড়া হয়েছিল ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে, যেখানে মাত্র ২০ ম্যাচেই ১০০ গোল হয়ে গিয়েছিল। 

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ৩.০২। এই হিসাব ধরে এগোলে ১০৪ ম্যাচের পুরো টুর্নামেন্ট শেষে গোলসংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

গোলের এই বন্যার পেছনে কয়েকটি কারণকে সামনে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম নতুন অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’। অনেক গোলরক্ষকই বলটির অস্বাভাবিক গতি ও বাঁক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে দূরপাল্লার শট থেকেও এসেছে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন গোল।

এ ছাড়া ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে নতুন ও তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর অংশগ্রহণও গোলসংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

জার্মানির কাছে কুরাসাওয়ের ৭-১ গোলের হার কিংবা কানাডার ৬-০ ব্যবধানে কাতারকে হারানোর মতো ম্যাচগুলো তারই প্রমাণ। 

তীব্র গরম আবহাওয়া এবং ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতিও প্রভাব ফেলছে খেলায়। অনেক ম্যাচেই শেষ দিকে ক্লান্তির কারণে রক্ষণভাগে ভুল বাড়ছে, যার সুযোগ নিচ্ছেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা। টুর্নামেন্টে হওয়া মোট গোলের প্রায় ২৯ শতাংশই এসেছে ৭৬ মিনিটের পর।

অন্যদিকে তারকা ফুটবলারদের দুর্দান্ত ফর্মও গোল উৎসবকে আরো রঙিন করে তুলেছে। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক, কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ধারাবাহিকতা, আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইনের গোল—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক মহা মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

গোলের ‘সেঞ্চুরি’তে ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙল বিশ্বকাপ ২০২৬

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই যেন বইছে গোলের বন্যা। প্রতিদিনই একের পর এক ম্যাচে জালের দেখা মিলছে, তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৬৮ বছরের পুরোনো এক কীর্তিকে ছুঁয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপ। 

শনিবার নেদারল্যান্ডসের ৫-১ গোলের দুর্দান্ত জয়ে সুইডেনকে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে টুর্নামেন্টের ১০০তম গোলটি করেন ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। আর সেই গোলের মধ্য দিয়েই মাত্র ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে বিশ্বকাপ ২০২৬।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১০০ গোলের মাইলফলকে এত দ্রুত পৌঁছানোর ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে।

সে আসরেও ৩৩ ম্যাচে শততম গোল হয়েছিল। তবে সবচেয়ে দ্রুত এই কীর্তি গড়া হয়েছিল ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে, যেখানে মাত্র ২০ ম্যাচেই ১০০ গোল হয়ে গিয়েছিল। 

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ৩.০২। এই হিসাব ধরে এগোলে ১০৪ ম্যাচের পুরো টুর্নামেন্ট শেষে গোলসংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

গোলের এই বন্যার পেছনে কয়েকটি কারণকে সামনে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম নতুন অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’। অনেক গোলরক্ষকই বলটির অস্বাভাবিক গতি ও বাঁক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে দূরপাল্লার শট থেকেও এসেছে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন গোল।

এ ছাড়া ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে নতুন ও তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর অংশগ্রহণও গোলসংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

জার্মানির কাছে কুরাসাওয়ের ৭-১ গোলের হার কিংবা কানাডার ৬-০ ব্যবধানে কাতারকে হারানোর মতো ম্যাচগুলো তারই প্রমাণ। 

তীব্র গরম আবহাওয়া এবং ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতিও প্রভাব ফেলছে খেলায়। অনেক ম্যাচেই শেষ দিকে ক্লান্তির কারণে রক্ষণভাগে ভুল বাড়ছে, যার সুযোগ নিচ্ছেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা। টুর্নামেন্টে হওয়া মোট গোলের প্রায় ২৯ শতাংশই এসেছে ৭৬ মিনিটের পর।

অন্যদিকে তারকা ফুটবলারদের দুর্দান্ত ফর্মও গোল উৎসবকে আরো রঙিন করে তুলেছে। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক, কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ধারাবাহিকতা, আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইনের গোল—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক মহা মঞ্চে পরিণত হয়েছে।