নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : ঝর ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, গাছপালা। বেশকিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ। অনেকের ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলাজুড়ে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গুয়ারপাড় গ্রামে।
ক্ষতিগ্রস্ত সিঙ্গুয়ারপাড়বাসী জানান, শনিবার রাতে তারাবীর নামাজের সময় ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এসময় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাঁচা, টিনসেড ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। নালিতাবাড়ী শহরে ধ্বসে পড়ে বাসাবাড়ির ইটের বাউন্ডারি দেয়াল। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গুয়ারপাড়া গ্রাম। এ গ্রামের প্রায় ৩০-৩৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেকের বাড়ির টিন গাছের ডালে এমনকি পাশের গ্রামে পর্যন্ত উড়ে গেছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।
দিনমজুর মফিজুল ইসলাম বলেন, ইফতারের দাওয়াতে সপরিবারে তিনি অন্য জায়গায় গিয়েছিলেন। আটটার দিকে ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে তারা আত্মীয় বাড়িতেই আটকা পড়েন। ঝড়-তুফান শেষ হওয়ার পর বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরবাড়ি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এখন তার মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই।
স্থানীয়রা জানান, এমন ঝড়ের কবলে তারা আজও পড়েননি। হঠাৎ করেই ঝড় এসে সবকিছু এলামেলো করে দিয়ে গেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজিজুল হক জানান, আকস্মিক এ ঝড়ে শুধু ঘরবাড়িই নয়, ওই এলাকার গাছপালা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর আল মামুন জানান, খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টিতে বোরো আবাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সবজি ও ভুট্টার কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্টাফ রিপোটার : মোক্তার হোসাইন মুক্তা 

























