ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ওসির সামনে চাঁদা দাবি যুবদল নেতার

নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ওসির সামনে চাঁদা দাবি যুবদল নেতার

নাটোরের গুরুদাসপুরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই হাটের ইজারাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী এক বছরের জন্য চন্দ্রপুর তুলাধূনা হাটের ইজারা নিতে টেন্ডার জমা দেন ওবায়দুল ইসলাম তপু ও রাকিবুর রহমান রাজা। ওইদিন দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধূনা হাটের ইজারা পান ওবায়দুল ইসলাম তপু। এতে ক্ষুব্ধ হন অপর টেন্ডারদাতা রাজা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা শেষে ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সামনেই তপুর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন রাজা। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সরকারি দপ্তরের সামনে এমন ঘটনায় উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ দেখা দেয়। ভুক্তভোগী ওবায়দুল ইসলাম তপু অভিযোগ করে বলেন, “ইজারা না পেয়ে সবার সামনে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করব।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিবুর রহমান রাজা। তিনি বলেন, “তপুর কাছে আমার এক বছর ধরে ৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সেই পাওনা টাকাই চেয়েছি। প্রশাসনের সামনে চাঁদা চাইব কেন? এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, “চাঁদা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা আমার সামনে ঘটেনি। তবে ক্ষোভের বশে রাজা তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’—এমন কথা বলেছেন।”

তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি কার্যালয়ের সামনেই এমন অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে। ঘটনাটি এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ওসির সামনে চাঁদা দাবি যুবদল নেতার

আপডেট সময় : ০৭:২৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই হাটের ইজারাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী এক বছরের জন্য চন্দ্রপুর তুলাধূনা হাটের ইজারা নিতে টেন্ডার জমা দেন ওবায়দুল ইসলাম তপু ও রাকিবুর রহমান রাজা। ওইদিন দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধূনা হাটের ইজারা পান ওবায়দুল ইসলাম তপু। এতে ক্ষুব্ধ হন অপর টেন্ডারদাতা রাজা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা শেষে ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সামনেই তপুর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন রাজা। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সরকারি দপ্তরের সামনে এমন ঘটনায় উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ দেখা দেয়। ভুক্তভোগী ওবায়দুল ইসলাম তপু অভিযোগ করে বলেন, “ইজারা না পেয়ে সবার সামনে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করব।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিবুর রহমান রাজা। তিনি বলেন, “তপুর কাছে আমার এক বছর ধরে ৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সেই পাওনা টাকাই চেয়েছি। প্রশাসনের সামনে চাঁদা চাইব কেন? এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, “চাঁদা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা আমার সামনে ঘটেনি। তবে ক্ষোভের বশে রাজা তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’—এমন কথা বলেছেন।”

তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি কার্যালয়ের সামনেই এমন অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে। ঘটনাটি এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।