ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে ফ্যাসিবাদ পূর্ণবাসনে এনসিপির ১৩ নেতার পদত্যাগ।

হবিগঞ্জে ফ্যাসিবাদ পূর্ণবাসনে এনসিপির ১৩ নেতার পদত্যাগ।

ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বঞ্চিত করাসহ নানা অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হবিগঞ্জ জেলা শাখার ১৩ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় দলের একাংশের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাশ, সদস্য মো. হারুন মিয়া, মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মো. জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১৩ জনের পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশে মধ্যপন্থার রাজনীতি চর্চা করে এমন কোনো কার্যকর দল আছে বলে আমাদের মনে হয় না। তবে এনসিপি যদি ভবিষ্যতে ভুল সংশোধন করে কিংবা এমন কোনো নতুন রাজনৈতিক শক্তি আত্মপ্রকাশ করে যারা একাত্তর ও চব্বিশ উভয় চেতনা ধারণ করবে, তাহলে সেখানে যুক্ত হওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, মধ্যপন্থার রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি অল্প সময়ের মধ্যেই সে অবস্থান থেকে সরে এসে দুই মাসের ব্যবধানে দুটি জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া দলের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগকারী নেতারা জানান, মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কমিটিতে অনুগত শ্রেণি তৈরির লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা কমিটি চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে ফ্যাসিবাদ পূর্ণবাসনে এনসিপির ১৩ নেতার পদত্যাগ।

আপডেট সময় : ১০:০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বঞ্চিত করাসহ নানা অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হবিগঞ্জ জেলা শাখার ১৩ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় দলের একাংশের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাশ, সদস্য মো. হারুন মিয়া, মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মো. জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১৩ জনের পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশে মধ্যপন্থার রাজনীতি চর্চা করে এমন কোনো কার্যকর দল আছে বলে আমাদের মনে হয় না। তবে এনসিপি যদি ভবিষ্যতে ভুল সংশোধন করে কিংবা এমন কোনো নতুন রাজনৈতিক শক্তি আত্মপ্রকাশ করে যারা একাত্তর ও চব্বিশ উভয় চেতনা ধারণ করবে, তাহলে সেখানে যুক্ত হওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, মধ্যপন্থার রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি অল্প সময়ের মধ্যেই সে অবস্থান থেকে সরে এসে দুই মাসের ব্যবধানে দুটি জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া দলের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগকারী নেতারা জানান, মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কমিটিতে অনুগত শ্রেণি তৈরির লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা কমিটি চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।