ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী সিনজায় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

পোর্ট সুদান থেকে পাঠানো এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিন্নার রাজ্যের রাজধানী সিনজা খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে জাতীয় রাজধানী খার্তুমকে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সড়কের পাশেই নগরীটির অবস্থান। পূর্বাঞ্চলীয় নগরী পোর্ট সুদানকে যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক ঘাঁটি হিসেবে প্রায় তিন বছর ব্যবহার করার পর সেনাবাহিনী সমর্থিত সরকার খার্তুমে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই হামলা চালানো হয়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনী একটি বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে সিনজা পুনর্দখল করার পর এলাকাটি দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে সংঘাতমুক্ত ছিল। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় পরে খার্তুমও পুনরায় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক সূত্র এএফপিকে জানায়, আরএসএফের ড্রোনগুলো সিনজায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

সিন্নার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আওয়াদ জানান, হামলায় আরো অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর আরেকটি সূত্র জানায়, একাধিক পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যের সামরিক, নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চলা একটি বৈঠকের সময়ই সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

রাজ্যের যোগাযোগ দপ্তরের তথ্যমতে, হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

তবে তার দেহরক্ষী এবং প্রটোকল প্রধান হামলায় নিহত হয়েছেন। সিনজার এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবর্ষণের আওয়াজ শুনেছেন। এর আগে সর্বশেষ গত অক্টোবরে সিন্নার অঞ্চল ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধে দেশের ভেতরে ও সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ।

সংঘাতটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকটগুলোর একটি সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সিন্নার পুনর্দখলের পরবর্তী এক বছরে দুই লক্ষাধিক মানুষ রাজ্যটিতে ফিরে এসেছেন। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও চলমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই এসব প্রত্যাবর্তন ঘটছে। যুদ্ধের শুরুতে আরএসএফ যোদ্ধারা দ্রুত খার্তুম দখল করে নেওয়ার পর কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। পরে সেনাবাহিনী গত বছর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রায় ১২ লাখ মানুষ খার্তুমে ফিরে এসেছেন।

পুনর্গঠন কার্যক্রম চললেও আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা এখনো দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা মাঝেমধ্যে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও তাদের সরকার সুদানের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

অন্যদিকে আরএসএফ দেশের বিশাল পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। পাশাপাশি তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চল দিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। খার্তুমের কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়ক—এমন নগরীগুলো দখলের লক্ষ্য তাদের।

কোরদোফানের একাধিক নগরী আধাসামরিক বাহিনীর অবরোধে থাকায় সেখানে কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী সিনজায় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

পোর্ট সুদান থেকে পাঠানো এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিন্নার রাজ্যের রাজধানী সিনজা খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে জাতীয় রাজধানী খার্তুমকে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সড়কের পাশেই নগরীটির অবস্থান। পূর্বাঞ্চলীয় নগরী পোর্ট সুদানকে যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক ঘাঁটি হিসেবে প্রায় তিন বছর ব্যবহার করার পর সেনাবাহিনী সমর্থিত সরকার খার্তুমে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই হামলা চালানো হয়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনী একটি বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে সিনজা পুনর্দখল করার পর এলাকাটি দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে সংঘাতমুক্ত ছিল। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় পরে খার্তুমও পুনরায় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক সূত্র এএফপিকে জানায়, আরএসএফের ড্রোনগুলো সিনজায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

সিন্নার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আওয়াদ জানান, হামলায় আরো অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর আরেকটি সূত্র জানায়, একাধিক পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যের সামরিক, নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চলা একটি বৈঠকের সময়ই সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

রাজ্যের যোগাযোগ দপ্তরের তথ্যমতে, হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

তবে তার দেহরক্ষী এবং প্রটোকল প্রধান হামলায় নিহত হয়েছেন। সিনজার এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবর্ষণের আওয়াজ শুনেছেন। এর আগে সর্বশেষ গত অক্টোবরে সিন্নার অঞ্চল ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধে দেশের ভেতরে ও সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ।

সংঘাতটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকটগুলোর একটি সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সিন্নার পুনর্দখলের পরবর্তী এক বছরে দুই লক্ষাধিক মানুষ রাজ্যটিতে ফিরে এসেছেন। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও চলমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই এসব প্রত্যাবর্তন ঘটছে। যুদ্ধের শুরুতে আরএসএফ যোদ্ধারা দ্রুত খার্তুম দখল করে নেওয়ার পর কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। পরে সেনাবাহিনী গত বছর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রায় ১২ লাখ মানুষ খার্তুমে ফিরে এসেছেন।

পুনর্গঠন কার্যক্রম চললেও আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা এখনো দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা মাঝেমধ্যে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও তাদের সরকার সুদানের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

অন্যদিকে আরএসএফ দেশের বিশাল পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। পাশাপাশি তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চল দিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। খার্তুমের কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়ক—এমন নগরীগুলো দখলের লক্ষ্য তাদের।

কোরদোফানের একাধিক নগরী আধাসামরিক বাহিনীর অবরোধে থাকায় সেখানে কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।