তিনি বুধবার ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে বলেন, ‘আমরা …জিরো-সাম (এক পক্ষের লাভ মানে অন্য পক্ষের ক্ষতি) পদ্ধতির বিরোধিতা করেছি এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর ধারাবাহিকভাবে জোর দিয়েছি।’
বাস্তবে এই প্রস্তাব দক্ষিণ এশিয়া কেন্দ্রিক একটি বিকল্প জোট তৈরির সমতুল্য। এই জোটে চীনকেও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার কারণে এই অঞ্চলের প্রধান জোট ‘সার্ক’ (সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন) কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে, তখন এমন কথা সামনে এসেছে। জুন মাসে চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের কূটনীতিকরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা করেছিলেন। এই সহযোগিতা ‘কোনো তৃতীয় পক্ষের দিকে পরিচালিত হয়নি’ বলে তারা বলেছিলেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইসহাক দারের এ মন্তব্য এমন এক ময়েছে এসেছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে।
বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের কয়েক দশকের বৈরিতা এখন চরমে। গত মে মাসে দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী চার দিনের সংক্ষিপ্ত বিমান যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, যা সম্পর্কে আরো টানাপোড়েন বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কেরও মারাত্মক অবনতি হয়েছে। পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
যেখানে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
কিন্তু দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর অধিকাংশই ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান এবং আফগানিস্তান নিয়ে গঠিত সার্ক কি এমন কোনো নতুন জোটে যোগ দিতে সম্মত হবে, যার মূল লক্ষ্য ভারতকে বাদ দেওয়া বা অন্তত এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাব খর্ব করা?
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি আসলে কী নিয়ে?
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সঙ্গে তাদের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা। তিনি বলেছেন, এই ধারণাকে আরো প্রসারিত করে অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলকেও যুক্ত করা সম্ভব।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দার বলেন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগব্যবস্থা, এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ভিত্তিতে নতুন গ্রুপ বা জোট গঠিত হতে পারে। ভারতের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব জাতীয় উন্নয়ন ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকার কারো অনমনীয় অবস্থানের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না আর আপনারা জানেন, আমি ঠিক কাদের কথা বলছি।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারত-পাকিস্তানের ‘কাঠামোগত সংলাপ’ প্রক্রিয়া গত ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত রয়েছে। শুধু পাকিস্তানই নয়, অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা ওঠানামার অভিজ্ঞতা পেয়েছে।
দার বলেন, পাকিস্তান এমন একটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখে, যেখানে বিভেদের জায়গা নেবে সংযোগ ও সহযোগিতা, অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে বৃদ্ধি পাবে, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি হবে এবং মর্যাদার ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ (সিএসএসপিআর)-এর পরিচালক রাবিয়া আখতার আলজাজিরাকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই প্রস্তাবটি ‘বাস্তবায়নের চেয়ে বেশি আকাঙ্ক্ষামূলক’ মনে হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, সার্ক দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকায় আঞ্চলিক সহযোগিতাকে নতুনভাবে সাজানোর এবং বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের এই উদ্যোগ তাদের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।
সার্ক কী ধরনের আঞ্চলিক সংস্থা?
১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সাত সদস্য দেশ ছিল—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। পরে ২০০৭ সালে আফগানিস্তান যোগ দিয়ে অষ্টম সদস্য হয়। সার্কের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সংস্থার লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবনমান উন্নত করা, কল্যাণ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা।
কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও গত ৪০ বছরে সার্ক খুব বেশি অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এর প্রধান কারণ ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘকালীন উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর উপমহাদেশ বিভক্তির সঙ্গে সঙ্গেই দুই দেশ তিনটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ লড়েছে। ২০১৬ সালে ইসলামাবাদে আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল সার্কের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন। কিন্তু ভারত কাশ্মীরের এক প্রাণঘাতী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে সম্মেলন থেকে সরে দাঁড়ালে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।
সিএসএসপিআরের আখতার বলেন, ‘সার্কের কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বসম্মতির প্রয়োজন। দুই বৃহত্তম সদস্য দেশ যদি আঞ্চলিক সহযোগিতাকে দ্বিপক্ষীয় বিরোধ থেকে আলাদা রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা না দেখায়, তবে সার্ক এগোতে পারবে না।’ সার্কের শেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে।
বিশ্লেষকদের মতে, সার্ক বর্তমানে নিষ্ক্রিয় থাকলেও, যদি ভারত ও পাকিস্তান সুযোগ দেয় তবে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
কেন সার্ক গুরুত্বপূর্ণ?
২০২৫ সাল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা দুই বিলিয়নেরও বেশি। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বিশাল জনসংখ্যা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য খুবই নগণ্য, যা অঞ্চলের মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ (প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার)। এর বিপরীতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের জোট ‘আসিয়ান’-এর (জনসংখ্যা প্রায় ৭০ কোটি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ তাদের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ।
দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্বল বাণিজ্যের অন্যতম কারণ হলো আঞ্চলিক সংযোগ বা কানেক্টিভিটির অভাব। ২০১৪ সালে সার্ক একটি মোটর ভেহিকলস অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে ছিল, যার ফলে ইউরোপের মতোই গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাক পুরো দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে চলাচল করতে পারত। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে পাকিস্তান সেই চুক্তি, এমনকি আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ চুক্তিও বাধাগ্রস্ত করে।
এরপর থেকে সার্কের যৌথ উদ্যোগ খুবই সীমিত, যেমন কোভিড-১৯ মহামারির সময় জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলো জরুরি তহবিল গঠন করে ৭.৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল।
পাকিস্তান সার্কের বাইরে আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব গড়ার চেষ্টা করা প্রথম দেশ নয়। সার্কের আঞ্চলিক পরিবহন চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল মিলে নিজেদের মধ্যে ‘বিবিআইএন’ নামে অনুরূপ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)-এর সাউথ এশিয়া ইনিশিয়েটিভসের পরিচালক এবং বিশ্লেষক ফারওয়ার মতে, ভারত বিমসটেকের মতো অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্থারও অংশ। বিমসটেকে ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত। তবুও, ফারওয়ার মতে, স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদে ‘আঞ্চলিক বহুপাক্ষিকতার’ চেয়ে ‘দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক’ ব্যবস্থাগুলোই প্রাধান্য পাবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এক বা দুটি দেশের সঙ্গে কাজ করাটা বেশি নমনীয়তা, স্পষ্ট প্রণোদনা এবং দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়ার অধিক সম্ভাবনা তৈরি করে।’
পাকিস্তানের প্রস্তাবটি আদৌ সফল হবে?
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান মনে করেন, প্রস্তাবটি উচ্চাভিলাষী হলেও সময়োপযোগী। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়া বহুবার আঞ্চলিক বাস্তবসম্মত সহযোগিতা বা ‘মিনিলেটারালিজম’ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে, কারণ অঞ্চলটি নিরাপত্তা-নির্ভর চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার মধ্যে আটকে আছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ ডনথি বলেন, তাত্ত্বিকভাবে একটি নতুন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের সুযোগ রয়েছে। সার্ক কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় এই শূন্যতা নতুন উদ্যোগকে জায়গা করে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি এবং পাকিস্তান-চীন-বাংলাদেশ ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নতুন এই প্রস্তাবকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করেন রাবিয়া আখতার।
প্রথমত, যখন প্রচলিত আঞ্চলিক কাঠামো অচল, তখন দেশগুলো কি ছোট, নির্দিষ্ট ইস্যুভিত্তিক জোটে অংশগ্রহণের বাস্তব মূল্য খুঁজে পায়? দ্বিতীয়ত, এতে অংশ নিলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে কি না, সেই বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ পাকিস্তানের উদ্যোগে আগ্রহ দেখাতে পারে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার প্রবণতা সীমিত থাকবে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং সম্ভবত ভুটান—এই দেশগুলো কানেক্টিভিটি, জলবায়ু অভিযোজন ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার মতো বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করতে পারে।
অধ্যাপক শাহাব এনাম খান মনে করেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে হলে দেশগুলোকে প্রথাগত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে একত্র হতে হবে এবং ছোট রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ক্রমেই বুঝতে পারছে, কেবল বড় শক্তির স্বার্থ নয়, বরং নিজেদের অর্থনৈতিক টিকে থাকার জন্য গভীর আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য। ফলে বিকল্প আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রতি তাদের আগ্রহ বেড়েই চলেছে।
ডনথির মতে, পাকিস্তানের প্রস্তাবটি যদি এগিয়ে যায়, তবে তা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরো জটিল করতে পারে এবং চীনের সঙ্গে ভারতের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতাকেও তীব্র করতে পারে। এএসপিআই-এর ফারওয়া আমর অবশ্য মনে করেন, পাকিস্তানের উদ্যোগটি কৌশলগতভাবে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত।
তার মতে, পাকিস্তান এখন এক বিশেষ কূটনৈতিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নতুনভাবে সম্পর্ক উন্নত করছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























