- পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের বাসিন্দারা এক দিন আগে ঘটে যাওয়া আত্মঘাতী বোমা হামলার পর বুধবার কড়াকড়ি নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়েছেন। জেলা আদালত ভবনের বাইরে মঙ্গলবার হওয়া এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানি তালেবানের একটি শাখা, যে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দেশের অন্যান্য অংশে সাম্প্রতিক বহু হামলার পেছনেও ছিল।
জেলা আদালত বুধবার বন্ধ রাখা হয় এবং শহরের অন্যান্য আদালতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। চেকপোস্টগুলোতে গাড়ির লম্বা সারি দেখা যায়।
৫৮ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা ফজল সাত্তার বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সতর্ক আছে এবং দায়িত্ব পালন করছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই হামলাগুলো কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে ঘটছে?’
এই আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে। প্রায় তিন বছর পর রাজধানীতে এটিই প্রথম এ ধরনের হামলা।
৪২ বছর বয়সী আহত পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘এটি ছিল একেবারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
সবকিছু হঠাৎ ঘটল—মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমাকে মাটিতে ফেলে দিয়েছে।’
২৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শারজিল আহমেদ বিদেশি বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক খেলাধুলার আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মতে এটি গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা। আমাদের এ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। যদি এমন হামলা চলতেই থাকে, তাহলে বিশ্ব আমাদের ওপর কীভাবে বিশ্বাস করবে?’
বোমা হামলার কয়েক ঘণ্টা পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি নিরাপত্তা বৈঠক করেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুই নেতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে বিদেশি সমর্থিত সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়।’
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানি তালেবানদের আশ্রয় দিচ্ছে—যা কাবুল সরকার অস্বীকার করেছে।
আফগান তালেবান সরকার আত্মঘাতী হামলা ও আফগান সীমান্তের কাছে সেনা-পরিচালিত কলেজে হামলার ঘটনায় ‘গভীর শোক ও নিন্দা’ প্রকাশ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ওয়ানার ওই ক্যাডেট কলেজে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে এবং সব শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) মূলত আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সক্রিয়।
২০২১ সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে খারাপ হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে বহু আফগান বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন।
পাকিস্তানে টিটিপি হুমকি দিয়েছে, দেশে ইসলামি আইন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের হামলা চলবে।
আত্মঘাতী হামলায় নিহত সহকর্মীর দাফনে অংশ নিয়ে ৪৫ বছর বয়সী আইনজীবী হাফিজ মাযহার মালিক জাভেদ বলেন, ‘সব বিচারক ও আইনজীবী ভয়ে ছিলেন। আমরা ভাবছিলাম, হয়তো কিছুদিন পর আবার আমাদের ওপর হামলা হবে।’