‘এই ভার আর কতদিন বহন করতে হবে?’— ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর বর্বর নির্যাতন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিলেও, দীর্ঘ ৯ বছর পার হয়ে আজ ২০২৬ সালেও একজন রোহিঙ্গাকেও স্থায়ীভাবে স্বদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে এই বিশাল জনসংখ্যার বোঝা এখন স্থানীয় অর্থনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তার জন্য এক চরম সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্রমবাজার দখল ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়
অভিযোগ উঠেছে, শরণার্থী শিবিরের গণ্ডি পেরিয়ে রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে স্থানীয় শ্রমবাজার দখল করে নিচ্ছে। কম মজুরিতে কাজ পাওয়ায় স্থানীয় কায়িক শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন। এতে কক্সবাজার ও সংলগ্ন এলাকার নিরীহ বাঙালি ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
বাড়ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাস ও অপহরণের থাবা
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যাম্প ও তৎসংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ী এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের গোপন আস্তানা। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় নিরীহ বাঙালিদের ধরে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মুক্তিপণ দিতে না পারলে অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমরা মানবিকতার খাতিরে তাদের জায়গা দিয়েছিলাম। আর আজ আমাদেরই নিজ ভূমিতে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। আমাদের ছেলেরা কাজে যেতে পারছে না, অপহরণের ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারছি না।”
দ্রুত প্রত্যাবাসনের জোরালো দাবি
রোহিঙ্গাদের কারণে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ, অন্যদিকে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে জাতীয় নিরাপত্তা। দীর্ঘ ৯ বছরের এই অচলাবস্থা নিরসনে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন চান দেশের সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর চাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি।
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 



















