ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭-১৮ বছরেও মেলেনি একটি পাকা রাস্তা, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুরখোলা গ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে কাদা, বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও পানি জমে থাকায় হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও প্রায়ই এই সড়কে চলাচল করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকায় একটি পাকা রাস্তাও নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
দৈনিক বাংলার সংবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার এলাকাটি পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ গোলাম রসুল বলেন, “আমাদের এই এলাকায় অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বসবাস রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক উদ্যোগে শুকুরখোলা গ্রামের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা সরকারের কাছে নতুন কোনো বিলাসী প্রকল্প চাই না, শুধু একটি টেকসই পাকা রাস্তা চাই, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”
মোঃ গোলাম রসুল আরও বলেন, “বর্তমানে আমাদের উপজেলায় জাতীয় সংসদের দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর সংসদ সদস্য মোছাঃ সাবিরা সুলতানা মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোশলে উদ্দীন ফরিদ মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন রাস্তা নয়; বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে শুকুরখোলা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে পাকা নির্মাণ করবেন। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ লাঘব হবে, অন্যদিকে সরকারের চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফলও এই এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

১৭-১৮ বছরেও মেলেনি একটি পাকা রাস্তা, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:১৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুরখোলা গ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে কাদা, বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও পানি জমে থাকায় হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও প্রায়ই এই সড়কে চলাচল করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকায় একটি পাকা রাস্তাও নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
দৈনিক বাংলার সংবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার এলাকাটি পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ গোলাম রসুল বলেন, “আমাদের এই এলাকায় অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বসবাস রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক উদ্যোগে শুকুরখোলা গ্রামের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা সরকারের কাছে নতুন কোনো বিলাসী প্রকল্প চাই না, শুধু একটি টেকসই পাকা রাস্তা চাই, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”
মোঃ গোলাম রসুল আরও বলেন, “বর্তমানে আমাদের উপজেলায় জাতীয় সংসদের দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর সংসদ সদস্য মোছাঃ সাবিরা সুলতানা মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোশলে উদ্দীন ফরিদ মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন রাস্তা নয়; বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে শুকুরখোলা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে পাকা নির্মাণ করবেন। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ লাঘব হবে, অন্যদিকে সরকারের চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফলও এই এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।