‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬’। মাছের উৎপাদন বাড়াতে জেলার ১৬টি নদ-নদীতে নিয়মিত দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে সুলতানা সরোবরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ ‘স্বপ্নকুঁড়ি’তে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দুই মৎস্যজীবীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
সভায় জানানো হয়, কুড়িগ্রামে বছরে প্রায় ৪৯ হাজার ২০৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। বিপরীতে জেলার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলার প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর নদ-নদী শুধু পানির উৎস নয়, দেশীয় মাছের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্র। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদীতে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা গেলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব।
তবে নদী ভরাট, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ও পোনা শিকারের কারণে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকারক জাল ব্যবহারে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ জেলার ১৬টি নদ-নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়মিত পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কুড়িগ্রামের মাছের ঘাটতি দূর করে জেলাকে মৎস্য উদ্বৃত্ত জেলায় পরিণত করা সম্ভব।
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু পুকুর বা বরোপিটে মাছ চাষের ওপর নির্ভর না করে নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়কে মৎস্য উৎপাদনের কার্যকর ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. সাইফুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আজাদুন্নবী শামীম এবং ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ নাহিদ।
আলোচনা শেষে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নদ-নদীতে কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকর জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা পোনা মাছগুলোকে পরিণত হওয়ার সুযোগ দিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬’ আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চলবে।
১৬ নদীতে পোনা অবমুক্তের আহ্বান মাছের ঘাটতি পূরণের আশা কুড়িগ্রামে
-
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা - আপডেট সময় : ০২:০৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- 39
জনপ্রিয় সংবাদ




















