ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বিজিবি’র চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, বাংলাদেশি সার, কীটনাশক ও পাট জব্দ

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ০৪টি বিওপির টহলদল পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, বাংলাদেশি সার, কীটনাশক ও পাট জব্দ করেছে।

বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল পাচারের চেষ্টা করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ১১:৫০ ঘটিকায় ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন খামারভাতী (থানা: হাতিবান্ধা, জেলা: লালমনিরহাট) এবং ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭:৫০ ঘটিকায় রামখানা বিওপির আওতাধীন পশ্চিম রামখানা (থানা: নাগেশ্বরী, জেলা: কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ঝাউরানী বিওপি এলাকা থেকে ৫০ বোতল এবং রামখানা বিওপি এলাকা থেকে ৯২ বোতলসহ সর্বমোট ১৪২ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়।

এছাড়াও, ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকাল ৫:৪০ ঘটিকায় বাগভান্ডার বিওপির আওতাধীন পাথরডুবি (থানা: ভুরুঙ্গামারী, জেলা: কুড়িগ্রাম) এবং রাত ১০:৩০ ঘটিকায় দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন বানিয়াটারী (থানা: আদিতমারী, জেলা: লালমনিরহাট) নামক স্থানে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি সার ও পাট নিয়ে যেতে দেখে ধাওয়া করলে তারা বহনকৃত মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বাগভান্ডার বিওপি এলাকা থেকে ২৫০ কেজি বাংলাদেশি ইউরিয়া সার, ১০০ কেজি পটাশ সার ও কীটনাশক এবং দিঘলটারী বিওপি এলাকা থেকে ৪৬০ কেজি বাংলাদেশি পাট জব্দ করা হয়।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ১৪২ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপের সিজার মূল্য ৫৬,৮০০/- টাকা, ২৫০ কেজি বাংলাদেশি ইউরিয়া সার, ১০০ কেজি পটাশ সার ও কীটনাশকের সিজার মূল্য ১৩,৬০০/- টাকা এবং ৪৬০ কেজি বাংলাদেশি পাটের সিজার মূল্য ৯২,০০০/- টাকা। জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ১,৬২,৪০০/- (এক লাখ বাষট্টি হাজার চারশত) টাকা। এছাড়াও, চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

১৫ বিজিবি’র চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, বাংলাদেশি সার, কীটনাশক ও পাট জব্দ

আপডেট সময় : ০৯:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ০৪টি বিওপির টহলদল পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, বাংলাদেশি সার, কীটনাশক ও পাট জব্দ করেছে।

বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল পাচারের চেষ্টা করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ১১:৫০ ঘটিকায় ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন খামারভাতী (থানা: হাতিবান্ধা, জেলা: লালমনিরহাট) এবং ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭:৫০ ঘটিকায় রামখানা বিওপির আওতাধীন পশ্চিম রামখানা (থানা: নাগেশ্বরী, জেলা: কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ঝাউরানী বিওপি এলাকা থেকে ৫০ বোতল এবং রামখানা বিওপি এলাকা থেকে ৯২ বোতলসহ সর্বমোট ১৪২ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়।

এছাড়াও, ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকাল ৫:৪০ ঘটিকায় বাগভান্ডার বিওপির আওতাধীন পাথরডুবি (থানা: ভুরুঙ্গামারী, জেলা: কুড়িগ্রাম) এবং রাত ১০:৩০ ঘটিকায় দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন বানিয়াটারী (থানা: আদিতমারী, জেলা: লালমনিরহাট) নামক স্থানে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি সার ও পাট নিয়ে যেতে দেখে ধাওয়া করলে তারা বহনকৃত মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বাগভান্ডার বিওপি এলাকা থেকে ২৫০ কেজি বাংলাদেশি ইউরিয়া সার, ১০০ কেজি পটাশ সার ও কীটনাশক এবং দিঘলটারী বিওপি এলাকা থেকে ৪৬০ কেজি বাংলাদেশি পাট জব্দ করা হয়।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ১৪২ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপের সিজার মূল্য ৫৬,৮০০/- টাকা, ২৫০ কেজি বাংলাদেশি ইউরিয়া সার, ১০০ কেজি পটাশ সার ও কীটনাশকের সিজার মূল্য ১৩,৬০০/- টাকা এবং ৪৬০ কেজি বাংলাদেশি পাটের সিজার মূল্য ৯২,০০০/- টাকা। জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ১,৬২,৪০০/- (এক লাখ বাষট্টি হাজার চারশত) টাকা। এছাড়াও, চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”