শিক্ষকদের প্রস্থান শ্রেনী কক্ষে তালা
গতকাল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য সিংগীমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের আগেই পাঠদান বন্ধ করে বিদ্যালয় ছুটি ও তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিভাবক সহ এলাকাবাসী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার সরজমিনে স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে বিদ্যালয়েরপ্রধান শিক্ষক তার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিদ্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে সহকারী শিক্ষকদের কে নিয়ে চলে যান।এব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক ফজিলাতন নেছা নিদ্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট আগে ছুটি দিয়েছে স্বীকার করে বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস ও পাঠদান কক্ষে তালা ঝুলছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না। এসময় স্থানীয় একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন,যে প্রায় দিনই এমনি ভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে এক দিকে যেমন শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে অপর দিকে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী দাবি করেন, এমন ঘটনা প্রায়ই দিনই ঘটে।
জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক ও তিনজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে এবিদ্যালয়ে তুলনামূলক শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হলেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনায় বাধ্য বাধকতা একই রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারী কৃত অধ্যাদেশ সুত্রে জানা যায় , সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পর্যন্ত খোলা রাখা এবং পাঠদান পরিচালনা করা বাধ্য তামূলক করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার সুযোগ নেই। দায়িত্ব অবহেলা বা সরকারি নির্দেশনা অবমাননা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজিলাতুন্নেছা বলেন, আমার মেয়ে অসুস্থ থাকায় আমি আগে চলে এসেছি। তবে সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ছিলেন।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যোগেন্দ্রনাথ সেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছারাও বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাকিউজ্জামান বলেন,বিশেষ কোনো গুরুত্ব পুর্ন কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শোকজ করা সহ প্রশাসনিক ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।পরিশেষেবিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মমিনুল ইসলাম বলেন, যথাযথ কারণ ও অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া বিধি বহির্ভূত। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাতীবান্ধা(লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ 



















