সদর দপ্তর নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই নতুন মোড়
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা কার্যক্রম হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত হয়েছে। এর ফলে নতুন উপজেলা গঠন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে চলমান প্রক্রিয়ায় নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে দীর্ঘদিনের দাবি ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রক্রিয়া শেষে ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন—বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপনে নবগঠিত উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।
তবে সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় মতবিরোধ দেখা দেয়। বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাটসহ উত্তরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সদর দপ্তর ভৌগোলিকভাবে আরও সুবিধাজনক ও মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছেন। এ দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, হরতাল ও ছাত্র সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বিশেষ করে গত জুলাইয়ে সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং পরবর্তীতে আরও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল—নতুন উপজেলার সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যাতে ছয়টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার সুযোগ পান।
এ অবস্থায় হাইকোর্টের সাম্প্রতিক স্থগিতাদেশে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা কার্যক্রম আপাতত থমকে গেল। ফলে নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে চলমান বিতর্কেরও নতুন করে আইনি সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নবগঠিত উপজেলা বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম) আব্দুল্লাহ আল বোরহান 



















