ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে এনসিপির অন্তর্বিরোধ, ১৩ নেতা একযোগে পদত্যাগ

হবিগঞ্জে এনসিপির অন্তর্বিরোধ, ১৩ নেতা একযোগে পদত্যাগ

হবিগঞ্জে ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন, জুলাই যোদ্ধাদের বঞ্চনা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাসহ একাধিক অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার ১৩ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

‎বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকার একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

‎পদত্যাগকারী নেতারা হলেন-সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, যুগ্ম সদস্যসচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাশ, সদস্য মো. হারুন মিয়া, মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মো. জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমেদ।

‎সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদ বলেন,“আমরা গভীর হতাশা থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১৩ জনের পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। দেশে এখন এমন কোনো দল নেই, যারা প্রকৃত মধ্যপন্থার রাজনীতি করছে। তবে যদি কোনো দল একাত্তর ও চব্বিশের চেতনা ধারণ করে মধ্যপন্থার অবস্থান নেয়, তখন আমরা তা বিবেচনা করব।”

‎পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠদের পুনর্বাসন করা হয়েছে, আর জুলাই যোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, মধ্যপন্থার রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে দুটি রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়েছে- যা দলের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির পরিপন্থী।

‎সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

প্রার্থী মনোনয়নেও স্বচ্ছতা রক্ষা করা হয়নি, ফলে তৃণমূল পর্যায়ের জুলাই যোদ্ধারা মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।

‎নেতারা আরও বলেন, কমিটি গঠনের সময় সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগত শ্রেণি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যা সংগঠনকে দুর্বল করেছে। জেলা কমিটি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

‎তাদের মতে, বর্তমান নেতৃত্বের হাতে এনসিপি তার মূল আদর্শ ও নীতি থেকে সরে গেছে। তারা বলেন,
‎“এনসিপি এখন প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের সঙ্গে থাকা আর নীতিগতভাবে সম্ভব নয়। তাই আমরা একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

হবিগঞ্জে এনসিপির অন্তর্বিরোধ, ১৩ নেতা একযোগে পদত্যাগ

আপডেট সময় : ০২:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জে ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন, জুলাই যোদ্ধাদের বঞ্চনা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাসহ একাধিক অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার ১৩ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

‎বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকার একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

‎পদত্যাগকারী নেতারা হলেন-সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, যুগ্ম সদস্যসচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাশ, সদস্য মো. হারুন মিয়া, মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মো. জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমেদ।

‎সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদ বলেন,“আমরা গভীর হতাশা থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১৩ জনের পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। দেশে এখন এমন কোনো দল নেই, যারা প্রকৃত মধ্যপন্থার রাজনীতি করছে। তবে যদি কোনো দল একাত্তর ও চব্বিশের চেতনা ধারণ করে মধ্যপন্থার অবস্থান নেয়, তখন আমরা তা বিবেচনা করব।”

‎পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠদের পুনর্বাসন করা হয়েছে, আর জুলাই যোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, মধ্যপন্থার রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে দুটি রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়েছে- যা দলের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির পরিপন্থী।

‎সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

প্রার্থী মনোনয়নেও স্বচ্ছতা রক্ষা করা হয়নি, ফলে তৃণমূল পর্যায়ের জুলাই যোদ্ধারা মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।

‎নেতারা আরও বলেন, কমিটি গঠনের সময় সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগত শ্রেণি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যা সংগঠনকে দুর্বল করেছে। জেলা কমিটি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

‎তাদের মতে, বর্তমান নেতৃত্বের হাতে এনসিপি তার মূল আদর্শ ও নীতি থেকে সরে গেছে। তারা বলেন,
‎“এনসিপি এখন প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের সঙ্গে থাকা আর নীতিগতভাবে সম্ভব নয়। তাই আমরা একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।