ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্টফোনে মগ্ন যুব সমাজ: দুশ্চিন্তায় অভিভাবক

স্মার্টফোনে মগ্ন যুব সমাজ: দুশ্চিন্তায় অভিভাবক

আধুনিক প্রযুক্তির আশীর্বাদ হিসেবে স্মার্টফোন আমাদের হাতে এলেও, এর অতিরিক্ত ব্যবহার বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের পার্ক থেকে শুরু করে পড়ার টেবিল—সবখানেই এখন তরুণদের চোখে-মুখে শুধুই স্মার্টফোনের নীল আলোর প্রতিফলন।
​ভার্চুয়াল জগতে বন্দি শৈশব-কৈশোর
​সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন পাবলিক প্লেস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেখা যায়, একদল তরুণ বন্ধু মিলে আড্ডা দিলেও প্রত্যেকের মনোযোগ আটকে আছে নিজের ফোনের স্ক্রিনে। সামনাসামনি কথোপকথনের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রলিং বা অনলাইন গেমসে মগ্ন থাকতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘ডিজিটাল আসক্তি’, যা তরুণদের সামাজিক দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে।
​অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
​সন্তানদের এমন আচরণে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে অভিভাবকদের। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মা জানান, “আগে সন্তানরা বিকেল হলে মাঠে যেত, এখন তারা ঘরের কোণে ফোন নিয়ে বসে থাকে। খাবার টেবিলেও ফোন ছাড়া তাদের চলে না।” পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব এবং খিটখিটে মেজাজ এই আসক্তির অন্যতম উপসর্গ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
​স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক প্রভাব
​চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে:
​দৃষ্টিশক্তি হ্রাস: অল্প বয়সেই চোখের সমস্যা ও চশমার ব্যবহার বাড়ছে।
​নিদ্রাহীনতা: গভীর রাত পর্যন্ত ফোন ব্যবহারের ফলে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা তৈরি হচ্ছে।
​একাকীত্ব: বাস্তব জগতের মানুষের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তরুণরা মানসিকভাবে একা হয়ে পড়ছে।
​সমাধানের পথ কী?
​মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু সন্তানদের দোষ দিলে হবে না; অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তানদের সাথে গুণগত সময় কাটানো এবং তাদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা জরুরি। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
​প্রযুক্তি আমাদের প্রয়োজনে, কিন্তু সেই প্রযুক্তি যেন আমাদের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ না নেয়—এখনই সেই বিষয়ে সজাগ হওয়ার সময়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সবজির দাম চড়া, অস্থির ডিমের বাজার

স্মার্টফোনে মগ্ন যুব সমাজ: দুশ্চিন্তায় অভিভাবক

আপডেট সময় : ১০:২২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আধুনিক প্রযুক্তির আশীর্বাদ হিসেবে স্মার্টফোন আমাদের হাতে এলেও, এর অতিরিক্ত ব্যবহার বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের পার্ক থেকে শুরু করে পড়ার টেবিল—সবখানেই এখন তরুণদের চোখে-মুখে শুধুই স্মার্টফোনের নীল আলোর প্রতিফলন।
​ভার্চুয়াল জগতে বন্দি শৈশব-কৈশোর
​সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন পাবলিক প্লেস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেখা যায়, একদল তরুণ বন্ধু মিলে আড্ডা দিলেও প্রত্যেকের মনোযোগ আটকে আছে নিজের ফোনের স্ক্রিনে। সামনাসামনি কথোপকথনের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রলিং বা অনলাইন গেমসে মগ্ন থাকতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘ডিজিটাল আসক্তি’, যা তরুণদের সামাজিক দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে।
​অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
​সন্তানদের এমন আচরণে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে অভিভাবকদের। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মা জানান, “আগে সন্তানরা বিকেল হলে মাঠে যেত, এখন তারা ঘরের কোণে ফোন নিয়ে বসে থাকে। খাবার টেবিলেও ফোন ছাড়া তাদের চলে না।” পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব এবং খিটখিটে মেজাজ এই আসক্তির অন্যতম উপসর্গ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
​স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক প্রভাব
​চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে:
​দৃষ্টিশক্তি হ্রাস: অল্প বয়সেই চোখের সমস্যা ও চশমার ব্যবহার বাড়ছে।
​নিদ্রাহীনতা: গভীর রাত পর্যন্ত ফোন ব্যবহারের ফলে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা তৈরি হচ্ছে।
​একাকীত্ব: বাস্তব জগতের মানুষের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তরুণরা মানসিকভাবে একা হয়ে পড়ছে।
​সমাধানের পথ কী?
​মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু সন্তানদের দোষ দিলে হবে না; অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তানদের সাথে গুণগত সময় কাটানো এবং তাদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা জরুরি। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
​প্রযুক্তি আমাদের প্রয়োজনে, কিন্তু সেই প্রযুক্তি যেন আমাদের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ না নেয়—এখনই সেই বিষয়ে সজাগ হওয়ার সময়।