ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামী নেই,তবু অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সুমি,-বৃদ্ধ বাবার প্রশ্ন,প্রশাসন কি,করবে সঠিক তদন্ত

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের মায়াজালপাড়া গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ মো. সুবহান আলীর একমাত্র মেয়ে সুমি। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী/পাগলী এই তরুণীর স্বামী নেই। অথচ তিনি প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কীভাবে তিনি গর্ভবতী হলেন—এই প্রশ্নে এলাকায় তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও নানা জল্পনা।
তবে বিষয়টি নিয়ে অনুমান, গুঞ্জন কিংবা কাউকে দায়ী করা নয়—সত্য উদঘাটনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রশাসনিক তদন্তই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সুমির বাবা সুবহান আলী জানান, তিনি সন্দেহ করছেন, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ তাঁর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী / পাগলী মেয়ের প্রতি যৌন নির্যাতন করে থাকতে পারে। তবে কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তিনি আরো বলেন, তাঁর প্রতিবেশী শাহেদ নিয়মিত তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তাঁর মেয়েকে বিস্কুট, চানাচুর, কেকসহ বিভিন্ন খাবার কিনে দিতেন। এমনকি লিপস্টিকও কিনে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সুবহান আলীর দাবি, তিনি শাহেদকে বাড়িতে এভাবে আসা-যাওয়া করতে নিষেধ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, সুবহান আলীর নিজের জীবনও চরম দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বে জর্জরিত। কৃষিশ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করা এই বৃদ্ধ এখন বয়সের ভারে আগের মতো কাজ করতে পারেন না। স্ত্রীও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী /পাগলী হওয়ায় সংসারের বোঝা আরও ভারী হয়েছে।

সরেজমিনে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনের ঘরে মাত্র দুটি বিছানা। নেই কোনো ভারী আসবাবপত্র, এমনকি বসার জন্য একটি চেয়ারও নেই। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে প্রতিবন্ধী/পাগলী স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী/পাগলী মেয়েকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ সুবহান আলী।

শুধু তাই নয়, সুবহান আলীর দাবি, তাঁর প্রায় ১২ বিঘা ফসলি জমি অন্যরা দখল করে ভোগ করছে। নিজের জমি ফেরত চাইলে ভূমিদখলকারীদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। জমির দলিল হাতে নিয়ে বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে বিচার চেয়েও তিনি প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রশ্নটি এখন সুমির গর্ভধারণকে ঘিরে। স্বামী নেই, নিজের সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতাও সীমিত—তাহলে সুমি কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হলেন? তাঁর গর্ভধারণের পেছনে আসলে কী ঘটেছে?এ ব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যায় সংশ্লিষ্ট সমাজের বিবেকবান মানুষ অত্র এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

স্বামী নেই,তবু অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সুমি,-বৃদ্ধ বাবার প্রশ্ন,প্রশাসন কি,করবে সঠিক তদন্ত

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের মায়াজালপাড়া গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ মো. সুবহান আলীর একমাত্র মেয়ে সুমি। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী/পাগলী এই তরুণীর স্বামী নেই। অথচ তিনি প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কীভাবে তিনি গর্ভবতী হলেন—এই প্রশ্নে এলাকায় তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও নানা জল্পনা।
তবে বিষয়টি নিয়ে অনুমান, গুঞ্জন কিংবা কাউকে দায়ী করা নয়—সত্য উদঘাটনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রশাসনিক তদন্তই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সুমির বাবা সুবহান আলী জানান, তিনি সন্দেহ করছেন, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ তাঁর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী / পাগলী মেয়ের প্রতি যৌন নির্যাতন করে থাকতে পারে। তবে কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তিনি আরো বলেন, তাঁর প্রতিবেশী শাহেদ নিয়মিত তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তাঁর মেয়েকে বিস্কুট, চানাচুর, কেকসহ বিভিন্ন খাবার কিনে দিতেন। এমনকি লিপস্টিকও কিনে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সুবহান আলীর দাবি, তিনি শাহেদকে বাড়িতে এভাবে আসা-যাওয়া করতে নিষেধ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, সুবহান আলীর নিজের জীবনও চরম দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বে জর্জরিত। কৃষিশ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করা এই বৃদ্ধ এখন বয়সের ভারে আগের মতো কাজ করতে পারেন না। স্ত্রীও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী /পাগলী হওয়ায় সংসারের বোঝা আরও ভারী হয়েছে।

সরেজমিনে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনের ঘরে মাত্র দুটি বিছানা। নেই কোনো ভারী আসবাবপত্র, এমনকি বসার জন্য একটি চেয়ারও নেই। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে প্রতিবন্ধী/পাগলী স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী/পাগলী মেয়েকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ সুবহান আলী।

শুধু তাই নয়, সুবহান আলীর দাবি, তাঁর প্রায় ১২ বিঘা ফসলি জমি অন্যরা দখল করে ভোগ করছে। নিজের জমি ফেরত চাইলে ভূমিদখলকারীদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। জমির দলিল হাতে নিয়ে বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে বিচার চেয়েও তিনি প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রশ্নটি এখন সুমির গর্ভধারণকে ঘিরে। স্বামী নেই, নিজের সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতাও সীমিত—তাহলে সুমি কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হলেন? তাঁর গর্ভধারণের পেছনে আসলে কী ঘটেছে?এ ব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যায় সংশ্লিষ্ট সমাজের বিবেকবান মানুষ অত্র এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।