স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবি থেকে থানাঘাট যাওয়ার পথে গলাচিপা এলাকায় নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে বছরের পর বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই হয়ে আছে কয়েক গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। ঝুঁকিপূর্ণ এই পারাপারে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ পাথরডুবি ও থানাঘাট এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য গলাচিপার এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এ পথ ব্যবহার করেন। অথচ সেতু না থাকায় বাধ্য হয়ে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো পার হয়েই তাদের গন্তব্যে যেতে হয়।
স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেন। কিন্তু এক বছর না যেতেই সেটি নড়বড়ে ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর আবারও নিজেদের অর্থ ও শ্রমে নতুন করে সাঁকো নির্মাণ করতে হয়। এভাবেই বছরের পর বছর চলছে মানুষের দুর্ভোগ।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় কৃষক ও রোগীদের। সাঁকো দিয়ে কৃষিপণ্য ও কৃষি যন্ত্রপাতি পারাপার করা কঠিন। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে সহজে নেওয়া যায় না। পানি কম থাকলে অনেক সময় রোগীকে কাঁধে করে পার করতে হয়। ফলে জরুরি চিকিৎসা নিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশের তৈরি সরু সাঁকোটি দিয়ে একে একে মানুষ পারাপার করছেন। সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানির স্রোত ও পিচ্ছিল বাঁশের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, এই সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় ইতোমধ্যে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কারও হাত-পায়ে আঘাত লেগেছে, আবার কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপা এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছে এই এলাকার মানুষ।
পাথরডুবি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন,
“একটা ব্রিজের জন্য স্থানীয় পর্যায় ছাড়াও সাবেক ও বর্তমান এমপি এবং ঢাকা থেকে আগত পিডি ও ইঞ্জিনিয়ারদের দেখানো হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।”
সংসদ অধিবেশন চলায় কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও কি একটি স্থায়ী সেতু পাওয়ার অধিকার নেই তাদের? প্রতিবার বর্ষা এলেই দুর্ঘটনার শঙ্কা, রোগী পারাপারে ভোগান্তি আর বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল জীবন—আর কতদিন?
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত গলাচিপা এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং কমবে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
মোঃ রেজাউল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার 



















