ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্তন অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর মৃত্যু, গৌরনদীর লিজার মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন

 

বরিশালের গৌরনদীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় হরমোন চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি স্তন অপারেশন করিয়েছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১)। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লিজার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গ্রিন রোডের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তার স্তন অপারেশন করা হয়।

লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের মেয়ে। পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি ঢাকায় হরমোন চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। পরে স্তন অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার মা-বাবা ও বোন মিলে চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকা দেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, হাসপাতালের কাগজপত্রে তার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুসনদেও একই নাম ও লিঙ্গ উল্লেখ রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, তার মেয়েকে জোর করে দুবার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো সংসারেই তিনি থাকেননি। ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্ক বা সংসার করার বিষয়েও তার আগ্রহ ছিল না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের অ্যাডমিন পরিচয় দিয়ে জিএমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে রোগীর চিকিৎসক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

চিকিৎসক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে ফোন করবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ফলে অপারেশনের পর ঠিক কী কারণে লিজার মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, মৃত্যুসনদ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

স্তন অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর মৃত্যু, গৌরনদীর লিজার মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৮:৩১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বরিশালের গৌরনদীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় হরমোন চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি স্তন অপারেশন করিয়েছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১)। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লিজার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গ্রিন রোডের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তার স্তন অপারেশন করা হয়।

লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের মেয়ে। পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি ঢাকায় হরমোন চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। পরে স্তন অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার মা-বাবা ও বোন মিলে চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকা দেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, হাসপাতালের কাগজপত্রে তার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুসনদেও একই নাম ও লিঙ্গ উল্লেখ রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, তার মেয়েকে জোর করে দুবার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো সংসারেই তিনি থাকেননি। ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্ক বা সংসার করার বিষয়েও তার আগ্রহ ছিল না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের অ্যাডমিন পরিচয় দিয়ে জিএমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে রোগীর চিকিৎসক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

চিকিৎসক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে ফোন করবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ফলে অপারেশনের পর ঠিক কী কারণে লিজার মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, মৃত্যুসনদ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।