ক্রাইম রিপোর্টার
সারা দেশে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি রয়েছে তারই মধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার সার্ভেয়ার কমল দেবনাথ এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি,ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে ।জানা যায় কমল দেবনাথ এর মূল পোস্টিং খুলনা বিভাগে হলেও তিনি ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রেষনে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত আছেন, মাঝে মধ্যে তাকে বিভিন্ন উপজেলায় বদলি করা হলেও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার থাকাকালীন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ফিরে আসে।সর্বশেষ সাবেক জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন তদবির খাটিয়ে আবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ফিরে আসে, তারপর থেকেই ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় যেসব দুর্নীতি হয়েছে এবং যে দুর্নীতির জন্য সাবেক জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয় তার মধ্যে কমল দেবনাথ ছিল ধরা ছোয়ার বাইরে।বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এসে অনেক দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার এবং কানুনগো বদলি করলেও কোন ক্ষমতার তবিয়তে তিনি এখনো এখানে সপদে তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তার উত্তর মিলেনি।
সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন, জমির ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে নানা কৌশলে তিনি ঘুষ, অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে না দিয়ে, দলিলপত্র যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের নামে কমল দেবনাথ বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেন। অনেকে জানান, ঘুষ না দিলে তাদের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। এতে হতাশ হয়ে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই অবৈধভাবে ঘুষ বা কমিশন দিয়ে টাকা পরিশোধ করে, এছাড়াও এল/এ শাখার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি করে তিনি কমিশন বাণিজ্যের এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন যা এখন পর্যন্ত তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে শুধু ক্ষতিপূরণের টাকা থেকেই কমল দেবনাথ প্রায় কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার কমল দেবনাথ এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
দুর্নীতি, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি নিজের এবং স্ত্রীর নামে ব্যাপক সম্পদ গড়েছেন যার মধ্যে -পায়রা পোর্টে অধিগ্রহনকৃত চরবালিয়াতলি মৌজায় নামে বেনামে কয়েক কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন এছাড়াও তার সহকর্মী সার্ভেয়ার ফারুক ও জুয়েল এই তিনজন মিলে বরিশাল শহরে রুপাতলী হাউজিং এ পাঁচতলা বিশিষ্ট বাড়ি তৈরি করেছেন।যার কাজ এখনো নির্মানাধীন। একজন ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার সার্ভেয়ার,জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪ তম গ্রেট এর কর্মচারী বেতন সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা এই বেতনের একজন ব্যক্তি যদি ২০ বছর চাকরি করার পরে বেতন বোনাস মিলিয়ে আয় ৭০ লাখ টাকা ও হবে না। পারিবারিক হিসাবটা বাদই দিলাম অথচ ১৪তম গ্রেডের সরকারি সাধারণত জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪ তম গ্রেড-এর কর্মচারী [৩,৫]।এদের মূল বেতন স্কেল ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা [১]।মূল বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া,চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সহ একজন সার্ভেয়ারের মাসিক বেতন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে [৩]
তার বর্তমান সম্পদের বাজার মূল্য হিসেব অনুযায়ী ৫/৬ কোটি টাকা।
তার অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদানের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, একজন মাত্র সার্ভেয়ারের পক্ষে এত বড় দুর্নীতি করা সম্ভব নয়, এর পেছনে প্রভাবশালী মহলেরও হাত রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ দুর্নীতির শিকার হলেও ন্যায্য বিচার পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের দাবি, কমল দেবনাথ সহ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুদক অনুসন্ধান শেষে ২য় পর্ব প্রকাশিত হবে তাই চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়।
ক্রাইম রিপোর্টার 



















