ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি কোয়ার্টারে ৪ বছর, ভাড়া দেননি এক টাকাও উপজেলা প্রকৌশলী!

 

টানা চার বছর ধরে সরকারি কোয়ার্টারের ভাড়া দিচ্ছেন না এক উপজেলা প্রকৌশলী। আগের কর্মস্থলে ৮১ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই নতুন জায়গায় বদলি হয়েছেন। সেখানে দেড় বছর পার করলেও এক পয়সাও জমা দেননি সরকারি কোষাগারে। এমন অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এবার ‘সার্টিফিকেট মামলা’ করার প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম মো. ফিরোজুর রহমান। তিনি বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত। এর আগে চিলমারী উপজেলায় থাকাকালীন তিনি উপজেলা পরিষদের ‘ঘাঘট-০১’ নম্বর কোয়ার্টারে থাকতেন। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ বছর ৪ মাসের বাসা ভাড়া বাবদ ৮১ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই তিনি সদর উপজেলায় চলে আসেন।

চিলমারী উপজেলা প্রশাসন থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি বকেয়া পরিশোধ করেননি। শেষমেশ গত ২৬ জুলাই চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সাত কর্মদিবসের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় সরকারি দাবি আদায় আইন-১৯৯৩ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

চিলমারী থেকে সদরে আসার পর গত বছরের ১ মার্চ তাকে এলজিইডি কমপ্লেক্সের অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানেও দেড় বছর ধরে থাকছেন তিনি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি। বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের বিষয়েও গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান অনেকটা দায়সারাভাবে বলেন, ‘চিলমারীতে থাকাকালীন অন্য এক অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ভাড়ার টাকা দেওয়া হয়নি। আমি তো চিলমারী উপজেলা পরিষদকে বলেছি আমার কাছে এসে টাকা নিয়ে যেতে, তারা না এসে চিঠি দিয়েছে।’ আর সদর উপজেলার বকেয়া নিয়ে তার যুক্তি, ‘আমি তো এখানেই আছি, কোথাও পালিয়ে যাচ্ছি না। যে কোনো সময় ভাড়া দিয়ে দেবো।’

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান জানান, বকেয়া ভাড়া আদায়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ভাড়া বকেয়া থাকার বিষয়টি হিসাব বিভাগ খতিয়ে দেখবে।’

একই কর্মকর্তার দুই স্টেশনে প্রায় চার বছর বাসা ভাড়া বকেয়া রাখার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

সরকারি কোয়ার্টারে ৪ বছর, ভাড়া দেননি এক টাকাও উপজেলা প্রকৌশলী!

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

 

টানা চার বছর ধরে সরকারি কোয়ার্টারের ভাড়া দিচ্ছেন না এক উপজেলা প্রকৌশলী। আগের কর্মস্থলে ৮১ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই নতুন জায়গায় বদলি হয়েছেন। সেখানে দেড় বছর পার করলেও এক পয়সাও জমা দেননি সরকারি কোষাগারে। এমন অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এবার ‘সার্টিফিকেট মামলা’ করার প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম মো. ফিরোজুর রহমান। তিনি বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত। এর আগে চিলমারী উপজেলায় থাকাকালীন তিনি উপজেলা পরিষদের ‘ঘাঘট-০১’ নম্বর কোয়ার্টারে থাকতেন। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ বছর ৪ মাসের বাসা ভাড়া বাবদ ৮১ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই তিনি সদর উপজেলায় চলে আসেন।

চিলমারী উপজেলা প্রশাসন থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি বকেয়া পরিশোধ করেননি। শেষমেশ গত ২৬ জুলাই চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সাত কর্মদিবসের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় সরকারি দাবি আদায় আইন-১৯৯৩ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

চিলমারী থেকে সদরে আসার পর গত বছরের ১ মার্চ তাকে এলজিইডি কমপ্লেক্সের অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানেও দেড় বছর ধরে থাকছেন তিনি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি। বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের বিষয়েও গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান অনেকটা দায়সারাভাবে বলেন, ‘চিলমারীতে থাকাকালীন অন্য এক অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ভাড়ার টাকা দেওয়া হয়নি। আমি তো চিলমারী উপজেলা পরিষদকে বলেছি আমার কাছে এসে টাকা নিয়ে যেতে, তারা না এসে চিঠি দিয়েছে।’ আর সদর উপজেলার বকেয়া নিয়ে তার যুক্তি, ‘আমি তো এখানেই আছি, কোথাও পালিয়ে যাচ্ছি না। যে কোনো সময় ভাড়া দিয়ে দেবো।’

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান জানান, বকেয়া ভাড়া আদায়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ভাড়া বকেয়া থাকার বিষয়টি হিসাব বিভাগ খতিয়ে দেখবে।’

একই কর্মকর্তার দুই স্টেশনে প্রায় চার বছর বাসা ভাড়া বকেয়া রাখার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।