ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সভা-সমাবেশ, সচেতনতামূলক প্রচারণা ও নিয়মিত অভিযানের পরও সক্রিয় মাদক কারবার; সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজন

দেশজুড়ে মাদক নির্মূলে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ, মাদক নির্মূল কমিটির বৈঠক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে অভিযান পরিচালনা করছেন। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে এমন অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে মাদকবিরোধী অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নীলফামারী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত জেলায় ৭৩২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৪০টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ৩৫৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে জব্দ করা হয় ১৩ হাজার ৯৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৮ কেজি ৪৩০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৩৩০ পিস ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ৮ গ্রাম হেরোইন, ৭২ লিটার চোলাই মদ, ৫২ লিটার তাড়ি, ২ বোতল বিদেশি মদ, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন। এত বিপুলসংখ্যক অভিযান, মামলা ও মাদক জব্দের পরও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি এক আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায়ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সভায় জানানো হয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে আসামির জামিন চাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং আদালত মামলার তথ্য-প্রমাণ, তদন্তের অগ্রগতি ও আইনের বিধান বিবেচনা করেই জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু গ্রেপ্তার, মামলা বা সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। কার্যকর তদন্ত, শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণ, দক্ষ প্রসিকিউশন, দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি এবং পুনরাবৃত্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। তাই এর স্থায়ী সমাধানে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।
মাদকবিরোধী অভিযান, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের মধ্যে আরও সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মো: মোকলেছুর রহমান
মোবাইল নাম্বার: ০১৭৩৭৫৪৯৩৭৩

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

সভা-সমাবেশ, সচেতনতামূলক প্রচারণা ও নিয়মিত অভিযানের পরও সক্রিয় মাদক কারবার; সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজন

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে মাদক নির্মূলে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ, মাদক নির্মূল কমিটির বৈঠক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে অভিযান পরিচালনা করছেন। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে এমন অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে মাদকবিরোধী অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নীলফামারী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত জেলায় ৭৩২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৪০টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ৩৫৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে জব্দ করা হয় ১৩ হাজার ৯৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৮ কেজি ৪৩০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৩৩০ পিস ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ৮ গ্রাম হেরোইন, ৭২ লিটার চোলাই মদ, ৫২ লিটার তাড়ি, ২ বোতল বিদেশি মদ, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন। এত বিপুলসংখ্যক অভিযান, মামলা ও মাদক জব্দের পরও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি এক আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায়ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সভায় জানানো হয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে আসামির জামিন চাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং আদালত মামলার তথ্য-প্রমাণ, তদন্তের অগ্রগতি ও আইনের বিধান বিবেচনা করেই জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু গ্রেপ্তার, মামলা বা সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। কার্যকর তদন্ত, শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণ, দক্ষ প্রসিকিউশন, দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি এবং পুনরাবৃত্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। তাই এর স্থায়ী সমাধানে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।
মাদকবিরোধী অভিযান, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের মধ্যে আরও সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মো: মোকলেছুর রহমান
মোবাইল নাম্বার: ০১৭৩৭৫৪৯৩৭৩