অনেক সময় দেখা যায় শিশু এক মনে মুখে আঙুল দিয়ে বসে রয়েছে। মাঝে মাঝে দাঁত দিয়ে নখ কেটে যাচ্ছে। এমন অভ্যাস থাকে অনেক শিশুর। তার ফলে পেটের সমস্যা দেখা দেয়।
আবার আঙুল ও নখের অবস্থাও হয় যাচ্ছে তাই। সন্তানের এই বদভ্যাস বদলাতে অনেক সময় বকাঝকা করেন কোনো বাবা-মা। কখনো কখনো সন্তানকে মারধরও করেন।
তবে প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে শাসন করে বদভ্যাস ছাড়ানো সম্ভব নয়।
তাই অন্য উপায়ে বাবা-মায়েদের করতে হবে বাজিমাত।
কেন দাঁত দিয়ে নখ কাটে শিশুরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত দিয়ে নখ কাটা হলো এক ধরনের ‘নার্ভাস হ্যাবিট’। জীবনের যেকোনো সময় এই বদভ্যাস দেখা দিতে পারে। তা খুব ছোটবেলা হতে পারে।
কিংবা কৈশোর। আবার পরিণত বয়সেও হঠাৎ দাঁত দিয়ে নখ কাটার মতো বদভ্যাস দেখা দিতে পারে।
সাধারণত একাকিত্ব, অবসাদ, দুশ্চিন্তা, কৌতূহল, নকল করার চেষ্টার ফলে দাঁত দিয়ে নখ কাটার মতো বদভ্যাস তৈরি হয়। ঠিক এই কারণে বহু শিশু নাকে আঙুল দেওয়া, চুল পাকানো, আঙুল চোষা এবং দাঁতে দাঁত ঘষার মতো বদভ্যাসের শিকার হয়।
কিভাবে শিশুর এই বদভ্যাস ছাড়াবেন
শিশুদের নখ খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়।
তাই প্রতি সপ্তাহে তাদের বেড়ে যাওয়া নখ কেটে দিন। নখ বড় না থাকলে দাঁত দিয়ে কাটতে পারবে না। দাঁত দিয়ে নখ কাটলে ঠিক কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে, তা বুঝিয়ে বলুন। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে খুদে দাঁত দিয়ে নখ কাটে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। সেই সময় তাকে অন্য কিছুতে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।
নখে তেতো কিছু লাগিয়ে দেখতে পারেন। তাতে এই বদভ্যাস একেবারেই ত্যাগ করতে পারে খুদে। বারবার বারণে সন্তান জেদি হয়ে যায়। তার ফলে নিষিদ্ধ কাজ করবে বলে এককাট্টা হয়ে যায়। তাই যখন দাঁত দিয়ে নখ কাটছে দেখবেন, তখন সরাসরি বারণ করবেন না। তাকে অন্য কাজ কিংবা খেলাধুলায় ব্যস্ত করে দিন। তাতে এই বদভ্যাস থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
সবাই প্রশংসা চায়। পুরস্কার পেতে ভালোবাসে। আপনার শিশুও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই তাকেও বলুন বদভ্যাস ছাড়লে পুরস্কার পাবে। খুব বড়সড়, দামি কিছু না হোক, ছোট কোনো পুরস্কার দিন। তাতেও দেখবেন বদভ্যাস ছাড়ার মতো ইতিবাচক শক্তি পাবে শিশু।
এভাবে বদভ্যাস থেকে রেহাই না পেলে, বুঝতে হবে আপনার সন্তান অবসাদে ভুগছে, কিংবা কোনো কারণে সে উদ্বিগ্ন, যা ভবিষ্যতের জন্য মোটেও ভালো ইঙ্গিত নয়। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তাতেই সন্তানের এই বদভ্যাস দূর হবে।
অনলাইন ডেস্ক, 

























