পরীক্ষা হলের প্রতিটি বেঞ্চে শিক্ষার্থীরা খাতায় কলম চালাতে ব্যস্ত, শুধু একটি সিট খালি। ৬ষ্ঠ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র জিসান টানা পাঁচটি পরীক্ষায় অনুপস্থিত। বিষয়টি নজরে আসতেই আর ঘরে বসে থাকতে পারলেন না শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক মানবিক শিক্ষক। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, জিসান গুরুতর অসুস্থ। শুধু তাই নয়, পরীক্ষা দিতে না পারায় হতাশা আর পারিবারিক অভিমানে বাকি পরীক্ষাগুলোও আর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে।
শিক্ষার্থীর এমন দূরবস্থার কথা শুনে আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি। ২২শে আষাঢ়ের মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে জিসানের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন এই শিক্ষক। প্রায় ৪ কিলোমিটার টমটমে এবং পরে আরও ১ কিলোমিটার কাদামাখা কাঁচা রাস্তা পায়ে হেঁটে তিনি পৌঁছান চৌকিদার পাড়ায় জিসানের বাড়িতে।
সেখানে গিয়ে জানা যায় এক আবেগঘন ও কষ্টের গল্প। পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন থেকেই তীব্র জ্বরে আক্রান্ত ছিল জিসান। অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় চরম হতাশায় ভুগছিল সে। এর ওপর পরীক্ষা দিতে না পারার ক্ষোভে বাবা তাকে মারধর করায় মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে জিসান এবং বাকি পরীক্ষাগুলোও আর না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
এই পরিস্থিতিতে দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়ান জিসানের প্রিয় শিক্ষক। তিনি জিসান এবং তার বাবা-মাকে পরম স্নেহে বোঝান যে, জীবনে এমন কঠিন সময় আসতেই পারে, কিন্তু সেখানে থেমে গেলে চলবে না। অসুস্থতা কাটিয়ে এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়।
”একজন শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব শুধু ক্লাসে লেকচার দেওয়া নয়, প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে থাকা এবং তাদের স্বপ্নের পথকে মসৃণ করা।”
— উদ্যোগী শিক্ষক
শিক্ষকের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আশ্বাসে জিসানের পরিবারের ভুল ভাঙে। চোখের পানি মুছে জিসান এবং তার মা-বাবা প্রতিশ্রুতি দেন, আগামীকাল থেকেই জিসান আবার পরীক্ষা হলে ফিরবে এবং বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেবে।
শিক্ষকের এই সময়োচিত ও মানবিক উদ্যোগের গল্পটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। অনেকেই বলছেন, শিক্ষকরা যে কেবল পড়ালেখাই শেখান না, বরং জীবনের প্রতিটি সংকটে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন—এই ঘটনা তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
শিক্ষক সমাজ ও জিসানের পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে, জিসানের মতো আমাদের দেশের প্রতিটি সন্তান যেন যেকোনো বাধার দেয়াল টপকে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 



















