ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শামলাপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক: শিক্ষার মান ও দুপুরের খাবার নিয়ে গুরুত্বারোপ

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল হান্নান​

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তিনি শামলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পড়াশোনার খোঁজখবর নেন।
​পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে যে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী দুপুরে কোনো প্রকার খাবার ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান করে। বিষয়টি জানার পর তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
​বিদ্যালয় দুটিতে শিক্ষার্থী কম হওয়ার কারণ নিয়ে মতবিনিময়কালে শামলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম জানান, এলাকায় বাল্যবিবাহ এবং হঠাৎ করে নূরানী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও ভর্তি সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
​বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “করোনাকালে সাধারণ সরকারি বিদ্যালয়গুলো যখন বন্ধ ছিল, তখন অনেক মাদ্রাসা খোলা রাখা হয়েছিল। সেই সময় বাধ্য হয়ে কিংবা সুবিধার্থে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। এর ফলে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাময়িকভাবে কিছুটা কমে গেছে। এই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।”
​পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বাহাদুর রানা, টেকনাফ উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জালাল উদ্দিন এবং বাহারছড়া যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত রাখার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

শামলাপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক: শিক্ষার মান ও দুপুরের খাবার নিয়ে গুরুত্বারোপ

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল হান্নান​

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তিনি শামলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পড়াশোনার খোঁজখবর নেন।
​পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে যে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী দুপুরে কোনো প্রকার খাবার ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান করে। বিষয়টি জানার পর তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
​বিদ্যালয় দুটিতে শিক্ষার্থী কম হওয়ার কারণ নিয়ে মতবিনিময়কালে শামলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম জানান, এলাকায় বাল্যবিবাহ এবং হঠাৎ করে নূরানী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও ভর্তি সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
​বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “করোনাকালে সাধারণ সরকারি বিদ্যালয়গুলো যখন বন্ধ ছিল, তখন অনেক মাদ্রাসা খোলা রাখা হয়েছিল। সেই সময় বাধ্য হয়ে কিংবা সুবিধার্থে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। এর ফলে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাময়িকভাবে কিছুটা কমে গেছে। এই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।”
​পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বাহাদুর রানা, টেকনাফ উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জালাল উদ্দিন এবং বাহারছড়া যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত রাখার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।