ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে হানা দিয়েছে আগাম বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়া।

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে হানা দিয়েছে আগাম বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়া।

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে হানা দিয়েছে আগাম বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়া। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিলের সিংড়ার শত শত কৃষকের ‘সোনার ফসল’ এখন হুমকির সম্মুখীন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ ফসল বাঁচাতে নিরুপায় কৃষকরা এখন প্রকৃতির সাথে এক অসম ও মরণপণ যুদ্ধে নেমেছেন। এ বছর সিংড়া উপজেলায় প্রায় ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।

সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে। একদিকে নদীর পানি বিলে প্রবেশ করছে, অন্যদিকে সেই পানি ঠেকাতে স্থানীয় জনতা ও কৃষকরা একতাবদ্ধ হয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি ধান কাটতে কাজ করছে মহিলারাও, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় বসে না থেকে দেখা গেছে কিছু,কিছু জায়গাতে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে বালুর বস্তা সংগ্রহ করে এক রকম ফসল বাঁচানোর যুদ্ধে নেমেছেন স্থানীয়রা।

আরোজ,অপু ও মুন্টু বলেন আমরা সহ বেড়াবাড়ি গ্রামবাসী ও কৃষকেরা একত্রিত হয়ে গতকাল একটি বাঁধ নির্মাণ
করেছিলাম সেই বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে জমিতে পানি চলে
এসেছে,খুবই চিন্তায় আছি আমরা চলনবিলের কৃষক,
মাঠের পর মাঠ ধান পেকে থাকলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন,স সারা বছরের সম্বল আমার ৩২ বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই আশঙ্কার কথা জানান অসহায় কৃষক হাবিল প্রামানিক,তার পরিবারের বছর খোরাক ৩ বিঘা জমির ধান বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।
তিনি নিজেই বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, আগাম বন্যার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি,
ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো তে সরেজমিনে আমি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শন করছি এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে হানা দিয়েছে আগাম বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়া।

আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে হানা দিয়েছে আগাম বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়া। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিলের সিংড়ার শত শত কৃষকের ‘সোনার ফসল’ এখন হুমকির সম্মুখীন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ ফসল বাঁচাতে নিরুপায় কৃষকরা এখন প্রকৃতির সাথে এক অসম ও মরণপণ যুদ্ধে নেমেছেন। এ বছর সিংড়া উপজেলায় প্রায় ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।

সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে। একদিকে নদীর পানি বিলে প্রবেশ করছে, অন্যদিকে সেই পানি ঠেকাতে স্থানীয় জনতা ও কৃষকরা একতাবদ্ধ হয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি ধান কাটতে কাজ করছে মহিলারাও, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় বসে না থেকে দেখা গেছে কিছু,কিছু জায়গাতে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে বালুর বস্তা সংগ্রহ করে এক রকম ফসল বাঁচানোর যুদ্ধে নেমেছেন স্থানীয়রা।

আরোজ,অপু ও মুন্টু বলেন আমরা সহ বেড়াবাড়ি গ্রামবাসী ও কৃষকেরা একত্রিত হয়ে গতকাল একটি বাঁধ নির্মাণ
করেছিলাম সেই বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে জমিতে পানি চলে
এসেছে,খুবই চিন্তায় আছি আমরা চলনবিলের কৃষক,
মাঠের পর মাঠ ধান পেকে থাকলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন,স সারা বছরের সম্বল আমার ৩২ বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই আশঙ্কার কথা জানান অসহায় কৃষক হাবিল প্রামানিক,তার পরিবারের বছর খোরাক ৩ বিঘা জমির ধান বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।
তিনি নিজেই বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, আগাম বন্যার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি,
ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো তে সরেজমিনে আমি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শন করছি এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি।