ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে বাপের একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় ৪ সন্তানকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ। চিকিৎসাধীন ১ ছেলে, ২ মেয়ে ও ছেলের বউ। থানায় মামলার প্রস্তুতি।

লালমনিরহাটে বাপের একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় ৪ সন্তানকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ। চিকিৎসাধীন ১ ছেলে, ২ মেয়ে ও ছেলের বউ। থানায় মামলার প্রস্তুতি।

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বাবার একাধিক বিয়ে এবং স্ত্রীদের নামে জমি লিখে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় চার সন্তানকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ই জুলাই উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টিপের বাজার মন্ডলটারী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে আদিতমারী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টিপের বাজার মন্ডলটারী এলাকা। এই এলাকার বাসিন্দা মোঃ জয়নাল আলীর বিরুদ্ধে উঠেছে নিজ সন্তানদের ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জয়নাল আলী এ পর্যন্ত ৫টি বিয়ে করেছেন। গত ৭ই জুলাই এক সন্তানসহ অন্য এক বিবাহিত নারীকে পালিয়ে নিয়ে এসে ৬ নম্বর বিয়ে করার চেষ্টা করলে বাধা দেন তার সন্তানেরা।
​এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জয়নাল আলী নিজের শরীর ব্লেড দিয়ে কেটে ছেলেদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে কোর্ট ম্যারেজ করেন। পরবর্তীতে গত ৯ই জুলাই এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় এবং গ্রাম্য সালিশে না যাওয়ায়, জয়নাল আলী তার মামাতো ভাই নূর খালেক ও নূর মোহাম্মদসহ ১০-১২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে সন্তানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

হামলায় জয়নাল আলীর ৪ সন্তান— মোঃ সুজন মিয়া, মোছাঃ জামিলা, মোছাঃ জুঁই এবং মোছাঃ শিল্পী গুরুতর আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক মেয়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে যায় এবং অন্য সন্তানদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

ভুক্তভোগী ১ (মোঃ সুজন মিয়া):
​”আমার বাবা মেয়েলোভী মানুষ, ৫টা বিয়ে করছে। ৭ তারিখে আরেকটা ১ বাচ্চাওয়ালা মেয়েকে ভাগায় নিয়ে এসে ৬ নম্বর বিয়ে করতে চায়। আমরা বাধা দিলে উনি নিজের গা ব্লেড দিয়ে কেটে আদিতমারী থানায় আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করতে যায়। পরে কোর্ট ম্যারেজ করে। ৯ তারিখে আমার বোনকে মারার প্রতিবাদ করায় ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে আমাকে মেরে পা ও শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দিছে। আমি এখন হাসপাতালে।”

ভুক্তভোগী ২ (মোছাঃ জুঁই আক্তার):
​”বাবার এই একাধিক বিয়ের বারণ করায় আমাকে ফুফুর বাসায় জুতা দিয়ে পিটানো হয়। ৯ তারিখে গ্রাম্য সালিশে আমরা যাই নাই দেখে বাবা, ওনার মামাতো ভাই নূর খালেক, নূর মোহাম্মদসহ ১০-১২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমার একটা পায়ের হাঁটু ফেটে গেছে, আরেকটা হাঁটুতে দা দিয়ে কোপ দিয়ে কেটে ফেলছে।”

বর্তমানে আহতরা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। নিজ জন্মদাতার এমন নির্মমতায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে আদিতমারী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

লালমনিরহাটে বাপের একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় ৪ সন্তানকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ। চিকিৎসাধীন ১ ছেলে, ২ মেয়ে ও ছেলের বউ। থানায় মামলার প্রস্তুতি।

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বাবার একাধিক বিয়ে এবং স্ত্রীদের নামে জমি লিখে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় চার সন্তানকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ই জুলাই উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টিপের বাজার মন্ডলটারী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে আদিতমারী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টিপের বাজার মন্ডলটারী এলাকা। এই এলাকার বাসিন্দা মোঃ জয়নাল আলীর বিরুদ্ধে উঠেছে নিজ সন্তানদের ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জয়নাল আলী এ পর্যন্ত ৫টি বিয়ে করেছেন। গত ৭ই জুলাই এক সন্তানসহ অন্য এক বিবাহিত নারীকে পালিয়ে নিয়ে এসে ৬ নম্বর বিয়ে করার চেষ্টা করলে বাধা দেন তার সন্তানেরা।
​এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জয়নাল আলী নিজের শরীর ব্লেড দিয়ে কেটে ছেলেদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে কোর্ট ম্যারেজ করেন। পরবর্তীতে গত ৯ই জুলাই এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় এবং গ্রাম্য সালিশে না যাওয়ায়, জয়নাল আলী তার মামাতো ভাই নূর খালেক ও নূর মোহাম্মদসহ ১০-১২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে সন্তানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

হামলায় জয়নাল আলীর ৪ সন্তান— মোঃ সুজন মিয়া, মোছাঃ জামিলা, মোছাঃ জুঁই এবং মোছাঃ শিল্পী গুরুতর আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক মেয়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে যায় এবং অন্য সন্তানদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

ভুক্তভোগী ১ (মোঃ সুজন মিয়া):
​”আমার বাবা মেয়েলোভী মানুষ, ৫টা বিয়ে করছে। ৭ তারিখে আরেকটা ১ বাচ্চাওয়ালা মেয়েকে ভাগায় নিয়ে এসে ৬ নম্বর বিয়ে করতে চায়। আমরা বাধা দিলে উনি নিজের গা ব্লেড দিয়ে কেটে আদিতমারী থানায় আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করতে যায়। পরে কোর্ট ম্যারেজ করে। ৯ তারিখে আমার বোনকে মারার প্রতিবাদ করায় ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে আমাকে মেরে পা ও শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দিছে। আমি এখন হাসপাতালে।”

ভুক্তভোগী ২ (মোছাঃ জুঁই আক্তার):
​”বাবার এই একাধিক বিয়ের বারণ করায় আমাকে ফুফুর বাসায় জুতা দিয়ে পিটানো হয়। ৯ তারিখে গ্রাম্য সালিশে আমরা যাই নাই দেখে বাবা, ওনার মামাতো ভাই নূর খালেক, নূর মোহাম্মদসহ ১০-১২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমার একটা পায়ের হাঁটু ফেটে গেছে, আরেকটা হাঁটুতে দা দিয়ে কোপ দিয়ে কেটে ফেলছে।”

বর্তমানে আহতরা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। নিজ জন্মদাতার এমন নির্মমতায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে আদিতমারী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।