ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি দিঘিকে আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে ত্রাণমন্ত্রী দুলু

‎লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান ও ঐতিহাসিক সিন্দুরমতির দিঘিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

‎​বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে সিন্দুরমতির দিঘি ও পুকুরপাড়ের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
‎​
‎ত্রান​মন্ত্রী দুলু বলেন, সিন্দুরমতির দিঘি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলার কারণে ঐতিহ্যবাহী স্থানটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও এর সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস, লোককথা এবং ভক্তদের গভীর ধর্মীয় আবেগ জড়িত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দিঘিটির ঐতিহ্য পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে উন্নয়নকাজ পরিচালনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্ত ও পর্যটকরা নির্বিঘ্নে পূজা-পার্বণ ও পবিত্র স্নান সম্পন্ন করতে পারবেন।
‎​
‎​স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাসের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, একসময় এই অঞ্চলে তীব্র পানির সংকট দেখা দিলে জমিদার নারায়ণ চক্রবর্তী একটি পুকুর খনন করেন। কিন্তু পুকুর খননের পরও পানি না আসায় তাঁর দুই কন্যা ‘সিন্দুর’ ও ‘মতি’ নিজেদের জীবন বিসর্জন দেন বলে লোককথা রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের নামানুসারেই পুকুরের নাম এবং স্থানটির নাম ‘সিন্দুরমতি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
‎​
‎​পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, এই ঐতিহাসিক স্থানটির উন্নয়ন প্রকল্প ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ায় তা পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। আগামী অক্টোবর মাসের শেষ দিক অথবা নভেম্বর মাসে পুনরায় পুরোদমে উন্নয়নকাজ শুরু হবে।

‎​তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সিন্দুরমতি দিঘির উন্নয়ন কেবল সাধারণ অবকাঠামোগত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভক্তদের ধর্মীয় কার্যক্রমের সুবিধার পাশাপাশি স্থানটির নান্দনিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত উন্নয়নও সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে। এই এলাকার কাজ শেষ হলে এটি দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‎​
‎​এ সময় মন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনিতা দাস, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিক, স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

‎লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি দিঘিকে আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে ত্রাণমন্ত্রী দুলু

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

‎লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান ও ঐতিহাসিক সিন্দুরমতির দিঘিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

‎​বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে সিন্দুরমতির দিঘি ও পুকুরপাড়ের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
‎​
‎ত্রান​মন্ত্রী দুলু বলেন, সিন্দুরমতির দিঘি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলার কারণে ঐতিহ্যবাহী স্থানটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও এর সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস, লোককথা এবং ভক্তদের গভীর ধর্মীয় আবেগ জড়িত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দিঘিটির ঐতিহ্য পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে উন্নয়নকাজ পরিচালনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্ত ও পর্যটকরা নির্বিঘ্নে পূজা-পার্বণ ও পবিত্র স্নান সম্পন্ন করতে পারবেন।
‎​
‎​স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাসের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, একসময় এই অঞ্চলে তীব্র পানির সংকট দেখা দিলে জমিদার নারায়ণ চক্রবর্তী একটি পুকুর খনন করেন। কিন্তু পুকুর খননের পরও পানি না আসায় তাঁর দুই কন্যা ‘সিন্দুর’ ও ‘মতি’ নিজেদের জীবন বিসর্জন দেন বলে লোককথা রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের নামানুসারেই পুকুরের নাম এবং স্থানটির নাম ‘সিন্দুরমতি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
‎​
‎​পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, এই ঐতিহাসিক স্থানটির উন্নয়ন প্রকল্প ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ায় তা পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। আগামী অক্টোবর মাসের শেষ দিক অথবা নভেম্বর মাসে পুনরায় পুরোদমে উন্নয়নকাজ শুরু হবে।

‎​তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সিন্দুরমতি দিঘির উন্নয়ন কেবল সাধারণ অবকাঠামোগত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভক্তদের ধর্মীয় কার্যক্রমের সুবিধার পাশাপাশি স্থানটির নান্দনিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত উন্নয়নও সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে। এই এলাকার কাজ শেষ হলে এটি দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‎​
‎​এ সময় মন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনিতা দাস, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিক, স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।