ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রৌমারীতে ২৮ আগস্টের ঐতিহাসিক স্বাধীন প্রশাসন দিবস উদযাপন

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবময় ও ঐতিহাসিক ২৮ আগস্ট স্মরণে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও স্বাধীন প্রশাসন দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রৌমারী মুক্তাঞ্চলে বাংলাদেশের প্রথম বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বলে ‘রৌমারী রণাঙ্গন’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে রৌমারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান পলাশের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব রুহুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আয়নাল হক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফারুক আহমেদ বাবু, রৌমারী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন, মিশুকসহ যুবদল ও ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রৌমারীর রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ‘রৌমারী রণাঙ্গন’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে রৌমারী থানা সদর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রৌমারী থানা সদর ছিল বাংলাদেশের একমাত্র থানা সদর, যা পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর দখলে যায়নি।
তাঁর নির্দেশে লেফটেন্যান্ট নূরুন্নবীর নেতৃত্বে তৃতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের ডেল্টা কোম্পানি ৬ আগস্ট ১৯৭১ রৌমারীর প্রতিরক্ষা কাজে নিয়োজিত হয়। ১১ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত একাধিকবার জিয়াউর রহমান রৌমারী মুক্তাঞ্চল পরিদর্শন করেন। ২৮ আগস্ট তিনি সেখানে বাংলাদেশের প্রথম বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ ছাড়া রৌমারী মুক্তাঞ্চলে বাংলাদেশের প্রথম সামরিক প্রশিক্ষণ স্কুল ও মুক্তমাটিতে প্রথম ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রৌমারীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় জেড ফোর্সের তিনটি নিয়মিত ব্যাটেলিয়নকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল।
‘রৌমারী রণাঙ্গন’ বইয়ে উল্লেখিত বর্ণনায় বলা হয়েছে, রৌমারীর প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ ও বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিয়াউর রহমান সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন। তাঁকে প্রায়ই বলতে শোনা যেত— “রৌমারীতে এসে স্বাধীনতার স্বাদ পাই।”
ঐতিহাসিক এই দিনটি পালনের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা মহান মুক্তিযুদ্ধে রৌমারীর গৌরবময় ভূমিকা স্মরণ করেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রৌমারীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

রৌমারীতে ২৮ আগস্টের ঐতিহাসিক স্বাধীন প্রশাসন দিবস উদযাপন

আপডেট সময় : ০২:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবময় ও ঐতিহাসিক ২৮ আগস্ট স্মরণে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও স্বাধীন প্রশাসন দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রৌমারী মুক্তাঞ্চলে বাংলাদেশের প্রথম বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বলে ‘রৌমারী রণাঙ্গন’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে রৌমারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান পলাশের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব রুহুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আয়নাল হক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফারুক আহমেদ বাবু, রৌমারী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন, মিশুকসহ যুবদল ও ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রৌমারীর রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ‘রৌমারী রণাঙ্গন’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে রৌমারী থানা সদর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রৌমারী থানা সদর ছিল বাংলাদেশের একমাত্র থানা সদর, যা পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর দখলে যায়নি।
তাঁর নির্দেশে লেফটেন্যান্ট নূরুন্নবীর নেতৃত্বে তৃতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের ডেল্টা কোম্পানি ৬ আগস্ট ১৯৭১ রৌমারীর প্রতিরক্ষা কাজে নিয়োজিত হয়। ১১ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত একাধিকবার জিয়াউর রহমান রৌমারী মুক্তাঞ্চল পরিদর্শন করেন। ২৮ আগস্ট তিনি সেখানে বাংলাদেশের প্রথম বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ ছাড়া রৌমারী মুক্তাঞ্চলে বাংলাদেশের প্রথম সামরিক প্রশিক্ষণ স্কুল ও মুক্তমাটিতে প্রথম ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রৌমারীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় জেড ফোর্সের তিনটি নিয়মিত ব্যাটেলিয়নকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল।
‘রৌমারী রণাঙ্গন’ বইয়ে উল্লেখিত বর্ণনায় বলা হয়েছে, রৌমারীর প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ ও বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিয়াউর রহমান সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন। তাঁকে প্রায়ই বলতে শোনা যেত— “রৌমারীতে এসে স্বাধীনতার স্বাদ পাই।”
ঐতিহাসিক এই দিনটি পালনের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা মহান মুক্তিযুদ্ধে রৌমারীর গৌরবময় ভূমিকা স্মরণ করেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রৌমারীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।