ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রৌমারীতে খেলাফত মজলিস নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও একাধিক বিয়ের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বারবার যৌতুক দাবি এবং একাধিক বিয়ে করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো করেছেন ওই নেতার স্ত্রী।
অভিযোগকারী নারীর ভাষ্য, প্রায় চার বছর আগে রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের মো. আব্দুস সবুর মুন্সীর ছেলে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রৌমারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী আনসারীর সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে আড়াই বছর বয়সী আফিয়া সিদ্দিকা নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের পর প্রথমদিকে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, গাছবাড়ী বাজারে একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থের প্রয়োজন দেখিয়ে তার বাবার কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। পরে মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে তার বাবা ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে মাদ্রাসা সম্প্রসারণের অজুহাতে আবারও টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নিয়মিত মারধর, মানসিক নির্যাতন এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার তার স্বামী পুনরায় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা না দিলে সংসার করবেন না এবং তালাক দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে গালিগালাজ, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, অভিযুক্ত আইয়ুব আলী আনসারী একাধিক বিয়ে করেছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইয়ুব আলী আনসারীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

রৌমারীতে খেলাফত মজলিস নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও একাধিক বিয়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:২০:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বারবার যৌতুক দাবি এবং একাধিক বিয়ে করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো করেছেন ওই নেতার স্ত্রী।
অভিযোগকারী নারীর ভাষ্য, প্রায় চার বছর আগে রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের মো. আব্দুস সবুর মুন্সীর ছেলে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রৌমারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী আনসারীর সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে আড়াই বছর বয়সী আফিয়া সিদ্দিকা নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের পর প্রথমদিকে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, গাছবাড়ী বাজারে একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থের প্রয়োজন দেখিয়ে তার বাবার কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। পরে মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে তার বাবা ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে মাদ্রাসা সম্প্রসারণের অজুহাতে আবারও টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নিয়মিত মারধর, মানসিক নির্যাতন এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার তার স্বামী পুনরায় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা না দিলে সংসার করবেন না এবং তালাক দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে গালিগালাজ, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, অভিযুক্ত আইয়ুব আলী আনসারী একাধিক বিয়ে করেছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইয়ুব আলী আনসারীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।