কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অতিভারী বর্ষণের কারণে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে বসতঘরের ওপর পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
ক্যাম্প প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টির কারণে ভোরে উখিয়ার ৮ ও ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং টেকনাফের একটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মাটির নিচে চাপা পড়া ঘরগুলো থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) সদস্যরা যৌথ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করেন।
ক্ষয়ক্ষতি ও নিহতদের পরিচয়
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। তারা ঘুমান্ত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পের ভেতরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এক নজরে ক্ষয়ক্ষতি:
নিহত: ৮ জন (উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্প মিলিয়ে)
আহত: ৫-৭ জন (চিকিৎসাধীন)
ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি: অন্তত ১০-১২টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত
”টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে হুড়মুড় করে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। আমরা খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করি। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী অন্য পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
— ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি)
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনার পর পরই উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন, আরআরআরসি (শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার) কার্যালয় এবং ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃষ্টির কারণে এখনো পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই মাইকিং করে পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে থাকা বাকি রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে বা স্কুলগুলোতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দূর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু
-
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন - আপডেট সময় : ০৯:৪১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- 36
জনপ্রিয় সংবাদ




















