ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে বসতভিটায় বালি ফেলার প্রতিবাদের থানায় গণঅভিযোগ ও মানববন্ধন

পৈতৃক বসত ঘর, ভিটা-মাটি ও উর্বর কৃষি জমি রক্ষায় অব্যাহত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপগঞ্জ থানায় গণ অভিযোগ দায়ের শেষে মানববন্ধন করেছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা।

৭ আগষ্ট শুক্রবার বিকালে রূপগঞ্জ থানার সামনে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ভুক্তভোগী জমি মালিক কৃষকরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মাঝিনার বাসিন্দা জমি মালিক রফিকুল ইসলাম, মাঝিনা নদীর পারের বাসিন্দা ইলিয়াস পারভেজ, ইছাখালীর বাসিন্দা এডভোকেট নাজমুল ইসলাম,আহসান উল্লাহ মাস্টার, পশ্চিম গাও এলাকার গৃহীনি হাসনা বেগম প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ১৭ টি মৌজায় ৪২ টি গ্রামের কৃষি জমি, বসত ভিটাসহ ৮ হাজার একর জমিতে জোরপূর্বক অবৈধভাবে বালু ভরাট করে আবাসনের নামে দখল করে নিচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলেই মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। তাই স্থায়ী সমাধান পেতে আমরা গণকর্মসুচী পালন করছি।

আজ শতাধিক অভিযোগ থানায় দায়ের করার পর মানববন্ধন করলাম। ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি করবো।

বক্তারা আরও জানান, রূপগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কায়েতপাড়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক ও সাধারণ মানুষ একযোগে থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত গণঅভিযোগ দাখিল করেন।

এ সময় তারা দাবী করেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি মৌজায় ড্রেজার বসিয়ে জোরপূর্বক পৈতৃক ও কৃষিজমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে। যারা এর প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন, তাদেরই নানাভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কায়েতপাড়ার উর্বর জমি এ অঞ্চলের কৃষকদের মূল চালিকাশক্তি। প্রভাবশালী চক্রের কাছে কৃষকের রক্তের দামে অর্জিত ভিটা-মাটি সমর্পণ করা হবে না। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু ভরাট ও জমি দখল বন্ধ করা না হলে রূপগঞ্জজুড়ে আরও কঠোর ও কঠোরতর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

কর্মসূচিতে আগত বক্তারা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ, ড্রেজার পাইপ অপসারণ এবং জড়িত ভূমিদস্যু চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এএসপি গ সার্কেল মেহেদী ইসলাম বলেন, ৫০ টির মতো অধিক কৃষক ও জমি মালিকের অভিযোগ পেয়েছি। উর্ধতন মহলকে জানিয়ে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

রূপগঞ্জে বসতভিটায় বালি ফেলার প্রতিবাদের থানায় গণঅভিযোগ ও মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১২:১০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

পৈতৃক বসত ঘর, ভিটা-মাটি ও উর্বর কৃষি জমি রক্ষায় অব্যাহত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপগঞ্জ থানায় গণ অভিযোগ দায়ের শেষে মানববন্ধন করেছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা।

৭ আগষ্ট শুক্রবার বিকালে রূপগঞ্জ থানার সামনে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ভুক্তভোগী জমি মালিক কৃষকরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মাঝিনার বাসিন্দা জমি মালিক রফিকুল ইসলাম, মাঝিনা নদীর পারের বাসিন্দা ইলিয়াস পারভেজ, ইছাখালীর বাসিন্দা এডভোকেট নাজমুল ইসলাম,আহসান উল্লাহ মাস্টার, পশ্চিম গাও এলাকার গৃহীনি হাসনা বেগম প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ১৭ টি মৌজায় ৪২ টি গ্রামের কৃষি জমি, বসত ভিটাসহ ৮ হাজার একর জমিতে জোরপূর্বক অবৈধভাবে বালু ভরাট করে আবাসনের নামে দখল করে নিচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলেই মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। তাই স্থায়ী সমাধান পেতে আমরা গণকর্মসুচী পালন করছি।

আজ শতাধিক অভিযোগ থানায় দায়ের করার পর মানববন্ধন করলাম। ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি করবো।

বক্তারা আরও জানান, রূপগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কায়েতপাড়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক ও সাধারণ মানুষ একযোগে থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত গণঅভিযোগ দাখিল করেন।

এ সময় তারা দাবী করেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি মৌজায় ড্রেজার বসিয়ে জোরপূর্বক পৈতৃক ও কৃষিজমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে। যারা এর প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন, তাদেরই নানাভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কায়েতপাড়ার উর্বর জমি এ অঞ্চলের কৃষকদের মূল চালিকাশক্তি। প্রভাবশালী চক্রের কাছে কৃষকের রক্তের দামে অর্জিত ভিটা-মাটি সমর্পণ করা হবে না। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু ভরাট ও জমি দখল বন্ধ করা না হলে রূপগঞ্জজুড়ে আরও কঠোর ও কঠোরতর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

কর্মসূচিতে আগত বক্তারা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ, ড্রেজার পাইপ অপসারণ এবং জড়িত ভূমিদস্যু চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এএসপি গ সার্কেল মেহেদী ইসলাম বলেন, ৫০ টির মতো অধিক কৃষক ও জমি মালিকের অভিযোগ পেয়েছি। উর্ধতন মহলকে জানিয়ে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।